লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইকবালের বিরুদ্ধে এলজিইডি’র তদন্ত শুরু

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন ও ঠিকাদারদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালে নিজের পক্ষে কয়েকজন ঠিকাদারকে বক্তব্য দিতে বলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে নিজ জেলায় কর্মরত থাকা এবং একাই তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন তারা দুইজনই লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা হওয়ায় সিন্ডিকেট তৈরি করেন। মঙ্গলবার থেকে সরজমিন তদন্ত শুরু করেন এলজিইডি’র নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং লক্ষ্মীপুর জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী। তদন্তের শুরুতে কয়েকজন ঠিকাদারের পৃথক বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পরে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনোয়ারা অ্যান্ড ফাল্গুনী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জহির হাওলাদারের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নেন তদন্ত কর্মকর্তা। জহির হাওলাদার দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগসংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্ত শুরুর আগেই উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন নিজের পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদারকে এনে তার পক্ষে বক্তব্য দেয়ানোর চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারী ঠিকাদার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে সদর উপজেলা থেকে অপসারণের দাবিও জানান। এর আগে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নির্মাণাধীন মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ‘৫ শতাংশ’ অলিখিত কমিশন নেয়া হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১৫ই জুলাই এলজিইডি সদর দপ্তর অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিল আটকে রেখে কমিশনের চাপ সৃষ্টি, একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, ঠিকাদার ও অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এ এস এম মহসীন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেয়া হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই বাছাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন এলজিইডি সদর দপ্তরে জমা দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন