প্রেমঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও রাকসুর নেতারা লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পেটানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দোষীদের বিচারের দাবি করেন। বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ কর্মসূচি করেন। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, লাইব্রেরির মতো একটি নিরাপদ স্থানে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি শিবিরের নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের নাম দিয়ে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই শিক্ষার্থীদের হত্যা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা। ১৯৭১ সালে আমাদের মা-বোনদের যারা ধর্ষণ করেছিল, যারা ধর্মের বিভাজনের নামে হিন্দু-মুসলিমদের হত্যা করেছিল, সেই রাজাকারদের আদর্শের অনুসারীরাই আবারো গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে তিনি বলেন, যারা সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান হিমেল বলেন, রাকসু ভবনের ভিপি ও জিএস-এর চেম্বারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়, বোমা বানানো হয়, অস্ত্রের ট্রেনিং করানো হয়, শিক্ষার্থীদের রগকাটা হয়। মূলত এসব কার্যক্রমের জন্যই রাকসু ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নেই। আমরা যেকোনো ডিপার্টমেন্টে দেখি সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে কিন্তু রাকসু ভবনে কি এমন, যে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সম্পূর্ণ সমর্থন করছে। যার হাতে কলম তোলার কথা ছিল এবং এক বুক ভরা আশা নিয়ে যাকে জিএস পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেই মানুষটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছ থেকে বেলচা নিয়ে এসে তা মানুষকে লাঞ্ছিত ও আহত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। আরেক দিকে, আমাদের ভিপি সাহেবের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা আশঙ্কা করছি, পাকিস্তানি ক্যান্টনমেন্ট থেকে তারা এই ষড়যন্ত্র পরিচালনা করছে। যাই হোক না কেন লাইব্রেরিতে ঢুকে যে ঘটনা তারা ঘটিয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ শাস্তি আমরা দাবি করছি।
