টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা রাশিয়ার, পাত্তাই দিলেন না পাভেল

টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা রাশিয়ার, পাত্তাই দিলেন না পাভেল

ফন্ট সাইজ:

বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে মামলা করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৯ জুলাই) দেশটির ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) অভিযোগ করেছে, দুরভের টেলিগ্রাম ব্যবহার করে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা রাশিয়ার ভেতরে নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনা করছে।

এর জবাবে টেলিগ্রামের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে রাশিয়ায় জন্ম নেয়া এই বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে মধ্যমা প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
এফএসবি ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ তদন্তের পর দুরভের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আন্তর্জাতিকভাবে খোঁজার তালিকায় (ইন্টারন্যাশনাল ওয়ান্টেড লিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এটি কী প্রক্রিয়ায় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রাশিয়া কয়েক বছর ধরেই বিদেশি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে। সেই ধারাবাহিকতায় টেলিগ্রামের গতি কার্যত সীমিত করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে অধিকাংশ ব্যবহারকারীকে ভিপিএন ব্যবহার করে টেলিগ্রামে প্রবেশ করতে হয়। তবে একই সময়ে ক্রেমলিন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা প্রতিদিনই টেলিগ্রামে বার্তা প্রকাশ করে যাচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় টেলিগ্রামকে অনেকেই “ভার্চুয়াল যুদ্ধক্ষেত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উভয় পক্ষের সরকারি কর্মকর্তা, সেনাসদস্য এবং প্রভাবশালী ব্লগাররা তথ্য প্রচারে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।

এফএসবির দাবি, টেলিগ্রামে থাকা ডাইভিনচিক/লিও নামের একটি জনপ্রিয় ডেটিং চ্যাটবট ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তরুণ রুশ নাগরিকদের টার্গেট করেছে। রাশিয়ায় টিন্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চ্যাটবটটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা তরুণীর পরিচয়ে ওই চ্যাটবটের মাধ্যমে রুশদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য করা হতো।
এফএসবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী ৪৬ জন রুশ নাগরিককে এভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি, যোগাযোগ ও আর্থিক অবকাঠামোয় অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনায় অংশ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া যদি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করে, তাহলে সেটি দ্রুত কার্যকর হবে না বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে ইন্টারপোলও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করেন পাভেল দুরভ। রাশিয়ার সঙ্গে দুবাইয়ের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক থাকলেও তাকে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করলে প্রযুক্তি ও ব্যবসাবান্ধব কেন্দ্র হিসেবে আমিরাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত সপ্তাহে দুরভ নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি জর্জিয়ায় অবস্থান করছেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ায় জন্ম নেয়া দুরভ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্স- দুই দেশেরই নাগরিক। তিনি প্রথমে রাশিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকোনতাকতে প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০১৪ সালে রুশ কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটির অবশিষ্ট শেয়ার বিক্রি করে দেশ ছাড়েন।
এর আগে ২০২৪ সালে ফ্রান্সে দুরভকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। পরে তদন্ত চলমান অবস্থায় তাকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়।
দুরভ বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

তার দাবি, টেলিগ্রাম কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়েও বেশি কাজ করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি রুশ সরকারি পত্রিকা জানায়, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায় দুরভ তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এপ্রিল মাসে টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে দুরভ জানান, “সন্দেহভাজন পি. ভি. দুরভ”-এর নামে একটি সমন ২০ বছর আগে রাশিয়ায় যেখানে তিনি বসবাস করতেন, সেই পুরোনো ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

সে সময় ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি লিখেছিলেন, সম্ভবত তারা আমাকে রাশিয়ার সংবিধানের ২৯ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ- যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে তা রক্ষার অভিযোগে সন্দেহ করছে। এই অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন