জাপানে ভূমিকম্পের পর শতাধিক আফটারশক

নিহত বেড়ে ১৩

জাপানে ভূমিকম্পের পর শতাধিক আফটারশক

ফন্ট সাইজ:

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটিতে একের পর এক আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অব্যাহত রয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে জাপানে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে “কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট” অবস্থায় পাওয়া গেছে। জাপানে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার আগে এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

বিবিসি বলছে, ভূমিকম্পের পর কুমামোতো অঞ্চলের একটি কাগজ কারখানা ও শপিংমলের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই শপিংমলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার করা এখন “সময়কে হার মানানোর লড়াই”। তিনি জানান, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) বাসিন্দাদের আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী এক সপ্তাহ, বিশেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিন সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো তীব্র কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্ধারকারীরা কাশিমা শহরের এইওন মলের ধ্বংসস্তূপেও এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে।

টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর ভবন থেকে সাদা ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত গাড়ি পার্কিং এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভবনের বাইরের বড় অংশ উড়ে গিয়ে ভেতরের ইস্পাতের কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
এইওন মলের প্রেসিডেন্ট আকিও ইয়োশিদা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং মলে কর্মরত আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। মলটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মী কাজ করতেন।
তিনি আরও জানান, চারজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। একজনকে শৌচাগার থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, আরেকজনকে কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়োশিদা বলেন, এই ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এদিকে ইয়াতসুশিরো শহরের একটি কাগজ কারখানাতেও উদ্ধার অভিযান চলছে। এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, ভূমিকম্পের ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও অনেক মানুষ সাহায্যের অপেক্ষায় আছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটিতে তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছে যাওয়ায় উদ্ধারকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্তদের হিটস্ট্রোক থেকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিতরণের জন্য প্রায় ৩০০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনার) ইউনিট বিমানে করে কুমামোতোতে পাঠানো হচ্ছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা দেশটিতে ভূমিকম্পের মাত্রা প্রথমে ৭.১ নির্ধারণ করলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর মাত্রা ৬.৮ বলে জানায়। ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণের পর এ ধরনের পরিমাপ পরিবর্তিত হওয়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং কুমামোতো শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
এনএইচকের প্রচারিত ভিডিওতে ফেটে যাওয়া সড়ক ও সেতু, বিভিন্ন ভবনে আগুন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ভূমিকম্পের পর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং হাজারো বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বুধবার সকালে কুমামোতো প্রিফেকচারের বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ভরা সড়ক, ধসে পড়া ভবন এবং উনিশ শতকের ঐতিহাসিক ইয়াতসুশিরো মন্দিরের উপাসনালয় বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ইয়াতসুশিরো শহরের ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা হিরোকো ওগাতা বিবিসিকে বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি নিজের পরিচালিত রেস্তোরাঁয় ছিলেন।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করি। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। ৭৫ বছরের জীবনে এত বড় ভূমিকম্প কখনও দেখিনি। তখন মনে হয়েছিল, আমি হয়তো বাঁচব না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন