বৃটেনের স্কুলগুলোতে যৌন অপরাধ মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্র বা ছাত্রীকে যৌন শিকারে পরিণত করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বৃটেনে যৌন অসদাচরণ ও পেশাগত অনৈতিকতার অভিযোগে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছরে ২১৪ জন শিক্ষককে পেশা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা। দ্য সান অন সানডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হিসাবে স্কুল খোলা থাকা প্রায় প্রতিটি দিনের জন্য একজনেরও বেশি শিক্ষককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ জন শিক্ষক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ছেন। নিষিদ্ধ হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন, কেউ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত এমন সাইটে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করেছেন, আবার কেউ শ্রেণিকক্ষে মাতাল অবস্থায় উপস্থিত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কিছু শিক্ষক পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বার্তা ও ছবি আদান-প্রদানের মতো অনুচিত আচরণ দেখা যাচ্ছে।
সাবেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাতাশা কোস্তালাস বলেন, তার কিছু সহকর্মী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করতেন। এসেক্সের ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক শিক্ষক বলেন, আমি দেখেছি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফিস্ট বাম্প করছেন। বাইরে থেকে এটি বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হলেও এতে সম্পর্কের একটি অস্বাভাবিক মাত্রা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বন্ধু নয়। এই পেশায় পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজি শিক্ষক জেন ডেনিংও এই উদ্বেগজনক প্রবণতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করেছেন। কেন্টের ৬০ বছর বয়সী এই শিক্ষক বলেন, স্কুলে যথাযথ শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সীমারেখা লঙ্ঘনের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে এটি অনৈতিক ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও সহজ করেছে। গত এক বছরে প্রকাশিত বহু ঘটনায় দেখা গেছে, শিক্ষকরা গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন।
২৮ বছর বয়সী জর্জিয়া লো স্ট্যাফোর্ডশায়ারের হেডনেসফোর্ডে প্রশিক্ষণরত শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। পরে গভীর রাতে ইমেইল আদান-প্রদানের পর তাকে অন্তর্বাস পরা নিজের ছবি পাঠান। শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি জানতে পারার পর তাকে শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্টের জীববিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক থমাস মনরো (২৯) তিনজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ গড়ে তোলেন। একজন শিক্ষার্থীর জীবনবৃত্তান্ত তৈরিতে সহায়তা করার কথা থাকলেও তিনি তাকে ব্যক্তিগত যৌন পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। রেবেকা জয়নেস (৩২) ম্যানচেস্টারে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে প্রলুব্ধ করেন এবং পরে ১৬ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তার সন্তানের মা হন। এ ঘটনায় তাকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। খাদ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক লিয়ান বার্কলে (৪৩) ওয়ারিংটনের এক ছাত্রীকে বারবার ব্যক্তিগত বার্তা পাঠাতেন। সেসব বার্তার মধ্যে ছিল, ‘তুমি শুধু আমার’ এবং ‘তোমাকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় আছি।’
ইস্ট সাসেক্সের বিকল্প শিক্ষক লিন্ডি করস্টন (৬১) ‘গ্র্যানি স্কুলটিচার’ নামে প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটে ভিডিওতে নগ্ন হয়ে উপস্থিত হওয়ার কারণে শিক্ষকতার অনুমোদন হারান। ডরসেটের শিক্ষক লুইস ডেভিস (৩৯) স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে এক স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তখন পাশের করিডোর দিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করছিল। পরে তাকেও শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
টিচিং রেগুলেশন এজেন্সির (টিআরএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন অসদাচরণ এবং পেশাগত সীমারেখা লঙ্ঘনই শিক্ষক নিষিদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। গত কয়েক বছরে নিষিদ্ধ শিক্ষকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১-২২ সময়ে ১০৮ জন, ২০২২-২৩ সময়ে ১৩৭ জন, ২০২৩-২৪ সময়ে ১৫৭ জন, ২০২৪-২৫ সময়ে ১৯১ জন ও ২০২৫-২৬ সময়ে ২১৪ জন শিক্ষককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে দুই বছরে টিআরএ ৩ হাজার ২৭৬টি অসদাচরণের অভিযোগ পেয়েছে এবং ১ হাজার ৬৩১টি তদন্ত শুরু করেছে।
স্কুল পরিদর্শক ক্লেয়ার প্ল্যাট বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একটি স্কুলের প্রথম দায়িত্ব। শিক্ষক নিষিদ্ধ হওয়ার সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকা মেনে নেয়া যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কখনোই শুধু আনুষ্ঠানিকতা হতে পারে না। একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি নজর এড়িয়ে গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য বা অনুপযুক্ত ব্যক্তিরা শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছেন। চলতি বছরের এক জরিপে দেখা গেছে ৭১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নতুন শিক্ষক নিয়োগকে কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন। ৪৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানও একই সমস্যার কথা বলেছেন। নতুন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেয় এমন প্রতিষ্ঠানের ৯০ শতাংশ আবেদনকারীদের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল-বেসড টিচার ট্রেইনার্সের প্রধান নির্বাহী এমা হলিস বলেন, অনুপযুক্ত আবেদনকারীদের জোর করে গ্রহণ করতে বাধ্য করলে সংখ্যার সংকট হয়তো কমবে, কিন্তু মানের সংকট আরও বাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন অসদাচরণের পাশাপাশি মাদক ও অ্যালকোহল-সংক্রান্ত অপরাধেও অনেক শিক্ষক নিষিদ্ধ হয়েছেন। কর্নওয়ালের গণিত শিক্ষক রোয়ান বার্নিকোট (২৯) একটি বড়দিনের পার্টিতে ৫ পাউন্ডের নোট দিয়ে কোকেন সেবনের সময় ধরা পড়েন। পরে তিনি এক সহকর্মীকে বলেন, আমার কখনো টাকার অভাব হয় না। মাদক বিক্রি করেই সব সময় টাকা থাকে। হার্টফোর্ডশায়ারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লেসলি বয়শার (৬১) এতটাই মাতাল ছিলেন যে সহকর্মীরা প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি হয়তো স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে তার নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের গন্ধ পান তারা। স্কুলে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে প্রচার চালানো সাবেক শিক্ষক সহকারী রিয়া কাল্লি বলেন, শিক্ষকদের ওপর শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং আদর্শ গঠনের দায়িত্ব থাকে। তাই এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা নীতিমালা নতুন করে পর্যালোচনা করা জরুরি। এদিকে টিচিং রেগুলেশন এজেন্সি জানিয়েছে, শিক্ষক নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষকতা পেশার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখা এবং স্কুলগুলোকে যথাযথ আচরণবিধি রক্ষায় সহায়তা করা। সংস্থাটি আরও জানায়, তুলনামূলক কম গুরুতর অসদাচরণ, অযোগ্যতা বা দুর্বল কর্মদক্ষতার ঘটনা এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না। সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই পরিচালনা করতে হয়।

গোলাম নাজের
৪৪ মিনিট আগেওইসব ইউরোপিয়ান দেশে চলাফেরায়, পোশাকে আশাকে শালীনতা বলতে কিছু থাকে না, তারা যার যেমন খুশি তেমন অদ্ভুত, বিশ্রী,কিম্ভুৎকিমাকার,হাফ হাতা, ডানা কাটা পোশাক পরে থাকে, যে পোশাকের দিকে যে কারো চোখ পড়লে তারা যৌন উন্মাদনা ধরে রাখতে পারেনা ও যৌন সুড়সুঁড়িতে আড়ষ্ট হয়ে পড়ে। যার কারণে ইংল্যান্ডের মতো সভ্য এবং গণতান্ত্রিক দেশেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব যৌনাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পোশাক আশাকে শালীনতাবোধ বজায় থাকবে না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সন্তান ও মা বাবার সম্পর্ক গড়ে উঠবে না, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও উঠতি বয়সের যুবক যুবতী শিক্ষার্থীদের পোশাক আশাকে নৈপুণ্যতা,শালীনতাবোধ ও যথাযথ পর্দা আরোপ করার মতো আইন তৈরি ও প্রয়োগ হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত ওইসব দেশে
যৌনাচার ও যৌন উদ্দীপনামূলক কর্মকান্ড বা ওই জাতীয় অপরাধের বিস্তার রোধ হবে বলে মনে হয় না।