চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় চলন্ত একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আবাসন ও ইটভাটা ব্যবসায়ী এস এম শহীদুল্লাহ রনি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের চারা বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়িক কাজ শেষে শহর থেকে নিজস্ব প্রাইভেটকার চালিয়ে রাউজানের বাড়িতে ফিরছিলেন শহীদুল্লাহ রনি। পথে চারা বটতলা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তার গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা করে। প্রথমে গাড়ির সামনের অংশ লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হলে গাড়ির গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত গাড়ির হেডলাইট বন্ধ করে নিচু হয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এরপর হামলাকারীরা গাড়ির ডান পাশের পেছনের অংশ লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একাধিক গুলি গাড়িতে আঘাত করে এবং কাচ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
ঘটনায় শহীদুল্লাহ রনি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর শহীদুল্লাহ রনি জানান, এটি পরিকল্পিত হামলা বলে তার ধারণা। ব্যবসায়িক কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও তার চট্টগ্রাম শহরের বাসভবন এবং রাউজানে পরিচালিত ইটভাটায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কয়েকজনের পূর্ববিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। সেই বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে একই মহাসড়কের হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চলন্ত প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে রাউজানের এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছিল।
