জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, আধুনিক কৃষি গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আয়োজিত এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) অর্থায়নে পরিচালিত ‘মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের উপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দিন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক মোসাম্মত শওকত আরা কলি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্রা কমাতে পারি, সে লক্ষ্য অর্জনে চলমান গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিরূপ পরিবেশেও ফসল উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য উপযোগী ফসল নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে এই গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং তিনি গুরুত্বসহকারে এটি সম্পন্ন করে এর ফলাফল দেশের কৃষিখাতে কাজে লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।”
আলোচকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের ধরন, লবণাক্ততা এবং মাটির বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে, যা কৃষি উৎপাদনকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, নির্ভুল জলবায়ু পূর্বাভাস, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।
দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ১৯৫৭ থেকে ২০২১ সালের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে ২১০০ সাল পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস তৈরি করা হবে। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় গ্রিনহাউজে ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রচলিত সয়াবিন এবং সম্ভাবনাময় মিলেটজাতীয় ফসলের বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা ও জলবায়ু-সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি মাইক্রো-ক্লাইমেট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় আবহাওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে কৃষকদের জন্য উপযোগী অভিযোজন কৌশল প্রণয়ন করা হবে।
সেমিনারের সভাপতি ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, “এই গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।”
সেমিনারের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা গবেষণার বিভিন্ন
