বিহার ও আসামের মতো কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি পশ্চিমবঙ্গে। তবে মঙ্গলবার নিম্ন আদালতে গত শুক্রবার ছাত্র বিক্ষোভে যুক্ত থাকায় ধৃত ১৬ জনকেই জামিন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে পুলিশের তরফে ধৃতদের জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হয়েছিল। ৩০ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশও দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে বদলে গিয়েছে রায়। জেল হেফাজতের নির্দেশ বদলে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
গত শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠন ও তেলাপোকা জনতা পার্টির ডাকে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ মিছিলে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। পড়ুয়া, অভিভাবক ছাড়াও অংশ নিয়েছিলেন বহু মানুষ। মিছিলের শেষ পর্যায়ে ধমর্তলায় অশান্তির সাক্ষী হয়েছে কলকাতা। সাংবাদিকরা খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে জুতো, জলের বোতল, ইট। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্শ দিয়েছিলেন। সেই মত গুন্ডা দমন আইন প্রযোগ করে ১৬ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।
তবে মঙ্গলবার গ্রেপ্তারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছিল, যেসব আন্দোলনকারীদের বয়স আঠারো বছরের নিচে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। যাদের অতীতে কোনও অপরাধের নজির নেই, মুক্তি দিতে হবে তাদেরও। শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত এফআইআর দায়ের হয়েছে তার ভিত্তিতেও কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। এই নির্দেশ কলকাতায় পৌঁছতেই ধর্মতলা কাণ্ডে ধৃতদের আইনজীবী ফের জামিনের আবেদন করেন। যদিও কলকাতায় অশান্তির ধৃতদের মধ্যে কেউ নাবালক নন, তবে পুলিশের তরফে জানানো হয় রাজ্য অভিযুক্তদের হেফাজতে রাখতে চায় না। এরপরই জেল হেফাজতের সিদ্ধান্ত বদলে ধৃতদের জামিনের আর্জি মঞ্জুর করে ব্যাঙ্কশাল আদালত। ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন পেয়েছেন ১৬ জন ধৃতই।
