সিট নীতিমালার দাবিতে সিন্ডিকেট মিটিং ঘেরাও

সিট নীতিমালার দাবিতে সিন্ডিকেট মিটিং ঘেরাও

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভা চলাকালে সভাকক্ষের বাইরে ‘সিন্ডিকেট ঘেরাও’ কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা। ‘শিক্ষার্থীবান্ধব স্বচ্ছ সিট নীতিমালা প্রণয়নের’ দাবিতে এ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন তারা। মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে ছয়টার দিকে সিন্ডিকেট মিটিং ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন ডাকসু সদস্যরা। সর্বশেষ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় আলোচনার জন্য ডাকসুর চারজন ও একজন ছাত্রী প্রতিনিধিসহ পাঁচজন প্রতিনিধি সিন্ডিকেট সভাকক্ষে প্রবেশ করেন।

এসময় তারা ‘আদু ভাইয়ের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘গণরুমের পায়তারা, রুখে দিবে ছাত্ররা’, ‘আবাসনে রিএড, চলবে না চলবে না’, ‘বিতর্কিত সিট নীতিমালা, চলবে না চলবে না’, ‘স্বচ্ছ নীতিমালা, দিতে হবে দিয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। ডাকসু নেতাদের দাবি, অনার্সে দুই বছর এবং মাস্টার্সে এক বছর রি-অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আবাসিক সুবিধা বহাল রাখার উদ্যোগ হলকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই পুনঃভর্তি বা দীর্ঘমেয়াদে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসিক অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি তিনবার রিএড’র মাধ্যমে আট বছর হলে অবস্থার সুযোগ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে।

যদি রিএড’র তিনবার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে রিএড নিবে। হলের সিট ছেড়ে কখনোই যাবে না। ফলে এর মাধ্যমে আগের মতো গণরুম, গেস্টরুম ফিরে আসবে। তিনি আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি এখন সিন্ডিকেট মিটিং চলছে। সেখানে সিট বরাদ্দ নীতি নিয়ে পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমরা থাকতে এটা কখনো হতে দিবো না। একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তির প্রথম দিনই হলের সিট নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. এনামুল হক সজিবের সঙ্গে ডাকসু প্রতিনিধিদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ‘বাহ্ প্রক্টর চমৎকার, হামলাকারীদের পাহারাদার’ এবং ‘বাহ্ প্রক্টর চমৎকার, গণরুমের পাহারাদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচজন প্রতিনিধিকে সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, আমরা সিন্ডিকেট মিটিংয়ের ভেতরে যেতে চাই না। সিন্ডিকেট সদস্যরাই এখানে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে পরবর্তীতে ৮টা ১৫ মিনিট বাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবারও কয়েকজন প্রতিনিধিকে সভাকক্ষে যাওয়ার আহ্বান জানালে প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় ছয়জন প্রতিনিধি আলোচনার জন্য সিন্ডিকেট সভাকক্ষে প্রবেশ করেছেন। কর্মসূচিতে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন