প্রথমবারের মতো দলে আলপি ও সুইডেন প্রবাসী আনিকা

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ

প্রথমবারের মতো দলে আলপি ও সুইডেন প্রবাসী আনিকা

ফন্ট সাইজ:

নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে নিয়েই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। গতকাল ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে আছেন এই প্রবাসী ফুটবলার। তবে নেই সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীনদের কেউ। প্রথমবারের মতো আনিকা ছাড়া এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে আছেন আরও দুই নতুন মুখ আলপি আক্তার ও সৌরভী আফরিন। এই দুজন প্রথমবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দও।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের আগে প্রাথমিক দল ঘোষণা করে নেপাল যান পিটার বাটলার। গত বছরের জানুয়ারিতে বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাদের মধ্যে প্রাথমিক দলে মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, রুপনা চাকমা, শামসুন্নাহারদের অনেকেই আছেন। ঠাঁই মেলেনি সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, সানজিদা খাতুন, মাসুরা পারভীনদের। সাবিনার নেতৃত্বে সাফ নারী ফুটসালে ক’দিন আগে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের প্রাথমিক দলে না থাকা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তখন সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই বৃটিশ কোচ। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আমি একটি বিষয় পুরোপুরি পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, আমি এখনো চূড়ান্ত দল ঘোষণা করিনি; সবার জন্যই সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। আমরা বর্তমানে খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি প্রাথমিক অনুশীলন দল গঠন করেছি। লীগে পাওয়া চোটের কারণে কয়েকজনের খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটেনি। অভিজ্ঞ এ ফুটবলারদের বাইরে রেখেই অস্ট্রেলিয়াগামী দল ঘোষণা করেছেন বাটলার।

গত ২৮শে জানুয়ারি থেকে ফিটনেস ট্রেনার ক্যামেরুন লর্ডের অধীনে জাতীয় দলের সঙ্গে কয়েক দিন অনুশীলন করে আবার সুইডেন ফিরে গেছেন আনিকা। কয়েকদিনের মধ্যে আবার ঢাকায় ফেরার কথা তার। মধ্যমাঠের পাশাপাশি দুই উইংয়েও খেলতে পারেন আনিকা। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন তিনি। গত মাসে সুইডিশ কাপে ক্লাবটির সিনিয়র দলেও অভিষেক হয়েছে তার। এশিয়ান কাপের মূল দলে তার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতভাবেই শক্তি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের। আনিকার সঙ্গে চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিয়েছেন সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ মাতিয়ে আসা ফরোয়ার্ড আলপি আক্তার। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন সৌরভী আফরিনও। তরুণ এই দুই ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দও।

সাফে চার ম্যাচে ৭ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন আলপি আক্তার। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন গোলরক্ষক। কিন্তু উচ্চতা খুব বেশি না হওয়ায় গোলকিপিং ছেড়ে স্ট্রাইকার বনে যান তিনি। ছোটখাটো গড়নের হলেও আক্রমণভাগে ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরতে থাকেন। তাতে ২০২৪ সালে প্রথমবার সুযোগ আসে ঢাকায় নারী ফুটবল লীগে। সেবার সিরাজ স্মৃতি সংঘের হয়ে ১১ গোল করে নজর কেড়ে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে। এর পর থেকে বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা এই কিশোরী। এবারের নারী লীগে রাজশাহী স্টার্সের জার্সিতে নিজেকে ছাপিয়ে গেছেন আলপি। ৮ ম্যাচে চারটি হ্যাটট্রিকসহ করেছেন সর্বোচ্চ ২৫ গোল। এই পারফরম্যান্সের উপহার পেয়েছেন তিনি। গতকাল থেকে ঋতুপর্ণাদের অনুশীলন করিয়েছেন বাটলার। এর মাঝে ১০ ও ১৩ই ফেব্রুয়ারি লীগের দুই ম্যাচ হওয়ার কথা। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ক্লাবে না গিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থেকেই এই দুটি ম্যাচ খেলবেন। ১৩ তারিখ ম্যাচের পর এশিয়ান কাপের স্কোয়াড ২৬ জনে নামিয়ে আনবেন বাটলার। জানা গেছে এই তালিকা এরইমধ্যে ফেডারেশনে জমা দিয়েছেন এই বৃটিশ কোচ। অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে আগামী ১লা মার্চ থেকে শুরু হবে এশিয়ান কাপ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান। ৩রা মার্চ সিডনিতে চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ছয় তারিখে আফঈদাদের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। ৯ই মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল
গোলরক্ষক: রূপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী। ডিফেন্ডার: আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আফরিন। মিডফিল্ডার: স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উন্নতি খাতুন। ফরোয়ার্ড: আলপি আক্তার, সৌরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। স্ট্যান্ডবাই: অর্পিতা বিশ্বাস, সিনহা জাহান, শান্তি মার্ডি, তনিমা বিশ্বাস।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন