আলাদা থাকা স্বামী হত্যা করেছে স্ত্রীকে!

টিকটকে ‘যৌন নিপীড়ক’ অভিযোগ

আলাদা থাকা স্বামী হত্যা করেছে স্ত্রীকে!

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার সারা গিলসনকে আলাদা থাকা তার স্বামী গুলি করে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। টিকটকে স্বামীর বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ৪৩ বছর বয়সী সারা গিলসন, সারা ডাফি নামেও পরিচিত ছিলেন। তাকে ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টুলসা শহরের উপকণ্ঠ কলিনসভিলে তাদের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। একই স্থানে তার ৪৮ বছর বয়সী আলাদা থাকা স্বামী জেরেমাইয়া শন ডাফির মরদেহও উদ্ধার করা হয়। এতে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ডাফি প্রথমে সারাকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তবে ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ১০ই জুন সারা গিলসন আদালতে একটি সুরক্ষা আদেশ (প্রোটেকটিভ অর্ডার) চেয়ে আবেদন করেছিলেন, যাতে ডাফিকে পারিবারিক বাড়ি থেকে দূরে রাখা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, একই দিনে আরেক নারীও একটি সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডাফি তার কিশোরী মেয়ের সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণ করেছেন। দ্য ওকলাহোমান-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক সহকারী যুব বাস্কেটবল কোচ নাকি ডাফিকে ওই কিশোরীকে চুম্বন করতে এবং অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করতে দেখেছিলেন।

আদালতে জমা দেয়া নথিতে আরও দাবি করা হয়, ওই কিশোরী পরে তার মাকে জানিয়েছিল যে ডাফি তাকে অনুপযুক্ত বার্তা পাঠিয়েছে, বাস্কেটবল সফরের সময় হোটেল কক্ষে ডেকেছে এবং চুপ থাকার জন্য অর্থ দিয়েছে। এসব অভিযোগ ওকলাহোমার ওয়াসো পুলিশের কাছেও জানানো হয়। নিজের আদালতের আবেদনে ডাফির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর উল্লেখ করেন সারা গিলসন। তিনি আরও দাবি করেন, ডাফির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন এবং একপর্যায়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
এক মাস পর ১১ই জুলাই সারা তার কয়েক হাজার অনুসারীর উদ্দেশে একটি গম্ভীর টিকটক ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি নীরবে একটি চেয়ারে বসে ছিলেন। পর্দায় লেখা ছিল- যে মানুষটিকে আমি শিগগিরই তালাক দিতে যাচ্ছি এবং যাকে আমি মাত্র জানতে পেরেছি যে সে একজন শিশু যৌন নিপীড়ক- তাকে নিয়ে যখন নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি বানাবে, তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘ইশ, যদি এটা মজা হতো।’

ভিডিও প্রকাশের ১২ দিন পর বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে পুলিশ জরুরি নম্বর ৯১১-এ একটি ফোনকল পায়। পুলিশ জানায়, কলের সময় একজন নারীর চিৎকার শোনা যায়। এরপর গুলির মতো একটি শব্দ শোনার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পাশের একটি বাড়ি থেকে এক কিশোর ৯১১-এ ফোন করে জানায়, তার সৎ বাবা তার মাকে গুলি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সারা গিলসন ও জেরেমাইয়া শন ডাফিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে মনে করলেও তদন্ত এখনও চলছে।

ঘটনার পর সারার ছেলেকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি হেফাজতে নেয়া হয়। পরে তাকে এমন একজন অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সারার রেখে যাওয়া দুই সন্তান- এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। সেখানে সারাকে অসাধারণ একজন মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন