অ্যানথ্রোপিকের জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘ক্লদ’-এর শত শত ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চ্যাট গুগলসহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই এর অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লদ। গত কয়েকদিন ধরে সাধারণ সার্চের মাধ্যমেই যে কেউ ব্যবহারকারীদের এই চ্যাট হিস্ট্রিগুলো দেখতে পাচ্ছিলেন। এগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে পেশাগত গোপনীয় ফাইলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটের ব্যবহারকারীরা প্রথম এই বিষয়টি শনাক্ত করেন। তারা জানান, গুগলে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্লদের অন্তত ২০০টিরও বেশি কথোপকথন বা চ্যাট লগ খুঁজে পাওয়া গেছে।
ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটটির ‘শেয়ার’ অপশন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লিঙ্কের মাধ্যমে চ্যাট শেয়ার করার পরই সেগুলো গুগল, বিং কিংবা ডাকডাকগোর মতো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে ইনডেক্স হয়ে ইন্টারনেটে উন্মুক্ত হয়ে যায়। চ্যাটগুলোর মধ্যে ব্যবহারকারীদের কাজের রিজিউমি, যোগাযোগ নম্বর, কর্পোরেট ক্লাউড সিকিউরিটি প্রজেক্টের খসড়া, এমনকি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্যাদিও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই বিষয়ে অ্যানথ্রোপিকের এক মুখপাত্র জানান, চ্যাট শেয়ার করার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের হাতেই থাকে। ব্যবহারকারী নিজে থেকে লিংক শেয়ার না করলে তা খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। লিংকটি শেয়ার করলে সেটি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং যেকোনো তৃতীয় পক্ষের দ্বারা সংরক্ষিত বা ইনডেক্স হতে পারে। তবে ক্লদের শেয়ার ফিচারে লিংকে প্রবেশ করে যে কেউ এটি দেখতে পাবে লেখা থাকলেও চ্যাটটি সরাসরি গুগলের সার্চ রেজাল্টে চলে আসতে পারে এমন কোনো স্পষ্ট সতর্কবার্তা ছিল না।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর অ্যানথ্রোপিক সার্চ ইঞ্জিনগুলো থেকে এসব লিংক দ্রুত সরিয়ে ফেলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বর্তমানে সার্চ রেজাল্ট থেকে চ্যাটগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে চ্যাটজিপিটি এবং ইলন মাস্কের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সের এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’ একই ধরনের ইনডেক্সিং বিভ্রাটের মুখে পড়েছিল, যার ফলে লাখ লাখ চ্যাট লগ ইন্টারনেটে উন্মুক্ত হয়ে যায়। গুগল নিশ্চিত করেছে যে ওয়েবসাইটের মালিকেরা কাস্টম কোডের মাধ্যমে ইনডেক্সিং ব্লক না করলে সার্চ ইঞ্জিন তা নির্দেশ মেনে জনসম্মুখে প্রদর্শন করে থাকে।
