ভারতে শিক্ষার্থীদের উপর পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ ঠেকাতে কেন ছররা গুলি বা পেলেট গানের মতো অস্ত্র ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করেছে বিরোধী দলগুলি। সংসদেও সরব হয়েছে বিরোধী সাংসদরা। সরকারের ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও উঠেছে।
গত ২০ জুলাই তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদে চলো’ আন্দোলনের সময় দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিআরপিএফ-এর আওতাধীন র্যাফকে। তাদের বিরুদ্ধেই ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত ২০ জুলাই তেলাপোকা জনতা পার্টির সংসদ চলো কর্মসূচির আগে বাহিনীর অন্তত এক ডজন সদস্যের হাতে ছররা বন্দুক তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিতর্কের জেরে ২৩ জুলাই অবশ্য র্যাফের সদস্যদের ওই অস্ত্র ফিরিয়ে দিতে বলা হয়।
পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার একটি জেনারেল ডায়েরির ভিত্তিতে ‘দ্য হিন্দু’ জানায়, ছররা বন্দুক থেকে র্যাফকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) পদমর্যাদার এক আধিকারিক। ‘এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০ জুলাই মধ্যরাতে জেনারেল ডায়েরি দায়ের করেছিল র্যাফ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ডিসিপি-র নির্দেশে’ ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল সেল, পাঁচটি কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং দু’রাউন্ড ছররা গুলি ব্যবহার করা হয়ছিল।
বিক্ষোভকারীরাও অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের মেডিকো লিগাল রিপোর্টে ছররা গুলির আঘাতের কথা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন তাদের অনেকেই ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন।
