ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি সড়কে প্রকাশ্য ছুরিকাঘাতে ৩ নারী আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ১৭তম অ্যারোঁদিসমঁর পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পথচারীদের সহায়তা এবং দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত পদক্ষেপে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করা হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, হামলাকারী রান্নাঘরে ব্যবহৃত দু’টি ছুরি দিয়ে ৩ নারীর ওপর আক্রমণ চালায়। আহতদের বয়স ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর। তাদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসকদের মতে তাদের জীবন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। আহতদের একজন অন্তঃসত্ত্বা বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী দুই হাতে ছুরি নিয়ে পথচারীদের দিকে তেড়ে যায়। এ সময় কয়েকজন পথচারী তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। একজন একটি স্যুটকেস ছুড়ে মারলে হামলাকারীর ভারসাম্য নষ্ট হয়। পরে অন্যরা তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে দৌড়ানোর সময় উপস্থিত এক অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি গ্রেপ্তারের সময় অসংলগ্ন বক্তব্য দেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সতর্ক করে বলেছেন, এ বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তিনি জানান, সন্দেহভাজনের বক্তব্য ছিল অসংলগ্ন এবং তার মানসিক অবস্থাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফরাসি জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রসিকিউটর দপ্ত ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্তের দায়িত্ব নেবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে। এদিকে প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
হামলার পর পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কিছু সময়ের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের সব দিক খোলা রাখা হয়েছে।
