ইত্তেফাক
‘বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপাতে ২৭১১ কোটি টাকার অনিয়ম’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো ঘিরে প্রায় ২০টি খাতে ২ হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনিয়ম হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঐ অর্থবছরে চাহিদা না থাকলেও ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার ২১১ টাকার অতিরিক্ত বই ছাপায় এনসিটিবি। কাগজের মান যাচাই না করেই ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বই শিক্ষার্থীদের দিয়েছে সংস্থাটি। ইন্সপেকশন এজেন্ট থাকার পরও দেড় কোটি টাকার প্রেস মনিটরিং বিল নেন এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা, যেটা সরকারের অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে অন্যদের পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারদের যোগসাজশ ও ‘সিন্ডিকেট দর’ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে কার্যাদেশ প্রদান করায় ৬১ কোটি ৮ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ টাকা সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এনসিটিবি সচিব প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌস গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনো তিনি কিছু জানেন না।’ এ বিষয়ে জানতে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিবেদনের বিষয়ে এনসিটিবিতে আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর দরপত্রেও ‘সিন্ডিকেট দর’ দিয়েছে ছাপাখানাগুলোর সিন্ডিকেট। এ কারণে আগের ‘সিন্ডিকেট দর’ ও অনিয়ম নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে চায় না এনসিটিবি। ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ের ই-টেন্ডারে প্রাক্কলিত দর প্রতি ফর্মায় বাড়ানো হয়েছে ৩০ পয়সা থেকে ৪৫ পয়সা। এবার ছাপাখানা মালিকদের সিন্ডিকেট করতে এনসিটিবি ও মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন। কিছু ছাপাখানা সিন্ডিকেটে যেতে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ কার্যক্রমে বেশি অনিয়ম হয়েছে। প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদান না করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, এমনকি এগারোতম দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এর ফলে সরকারের ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৩ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে অডিট অধিদপ্তর।
এছাড়া প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্সাহ-উদ্দীপনা ভাতা বাবদ ১ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৭ টাকা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা আদায় করে বোর্ডে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো ধরনের প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত হারে প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালা বাবদ সম্মানি প্রদান করা হয়েছে। এতে এনসিটিবির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩ টাকা। প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কাজের জন্য সম্মানি হিসেবে ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৫০ টাকা দেওয়া হয়েছে। এটা সরকারের আর্থিক অপচয়।
প্রতিবছর পাঠ্য বইয়ের রং, আকার, কাগজের মান ও কালি ঠিকঠাক আছে কী না তা যাচাইয়ে প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)। এর জন্য দরপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এক বছরে ৫৭ লাখ টাকা চুক্তিতে নেওয়া ইন্সপেকশন এজেন্ট থাকলেও প্রেসের কাজ দেখাশোনার জন্য বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রেস মনিটরিংয়ের নামে অতিরিক্ত বিল গ্রহণ করেছেন। এতে বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ১০০ টাকা। দরপত্র সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের প্রাপ্যতা বহির্ভূতভাবে ৩৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকার সম্মানি দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এনসিটিবি যাদের সম্মানি দিয়েছে, তাদের বিল হতে আয়কর কর্তন না করায় সরকারের ২৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৭২ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বোর্ডের ইনসিটু আওতাধীন সেসিপ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সম্মানি ভাতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এনসিটিবির ২১ লাখ ৪০ হাজার ৯১৭ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় অপেক্ষা অতিরিক্ত ও চড়া দরে কার্যাদেশ দিয়েছে এনসিটিবি। এর ফলে সরকারের ২১৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৭৫৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া এনসিটিবির নিজস্ব রুটিনভুক্ত কাজের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে অযৌক্তিকভাবে টাকা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বোর্ডের ৩২ লাখ ৬২ হাজার ৯৭০ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময় দেওয়া অগ্রিম অর্থ সমন্বয় করেনি এনসিটিবি। এর ফলে ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬০ টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা বিধির তোয়াক্কা না করে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ৫ কোটি ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৪০ টাকা অগ্রিম উত্তোলন করা হয়েছে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পাঠ্যবই ছাপানো ঘিরে সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।
প্রথম আলো
‘গ্যাসের ভোগান্তি কমেনি, বেড়েছে লোডশেডিং’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। এতে গ্যাস-সংকট নিয়ে চলমান ভোগান্তি আরও কিছুদিন থাকবে। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, বেড়েছে লোডশেডিং। বিপাকে পড়েছে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা। রান্নার চুলা জ্বালাতে পারছেন না অনেকেই। গাড়িতে গ্যাস নিতে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে অপেক্ষা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বন্ধ টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে দুই সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। তবে বন্ধ টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি আগামী সপ্তাহে চালু হতে পারে। এতে দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ও আরেকটি বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর দেশে গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়।
প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে। দিনে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন লাগার পর গত বৃহস্পতিবার এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস। আর গতকাল রোববার এটি ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। এতে দিনে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে এখন। যদিও দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে এত দিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে এলএনজির সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নামায় গ্যাসের সব ধরনের গ্রাহক বড় রকমের সংকটে পড়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, গত বৃহস্পতিবার টার্মিনালে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল। গতকাল পর্যন্ত টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি চালু করা যায়নি। বৈদ্যুতিক তারসহ অনেক কিছু পুড়ে গেছে। এগুলো আমদানি করা হচ্ছে। আমদানির পর কাজ শেষ করতে তিন থেকে চার দিন লাগবে। এর আগে অক্ষত বয়লারটি চালু করার জন্য জোর তৎপরতা চলছে। তবে কারিগরি কাজ শেষ হওয়ার সময় এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, কারিগরি দল কাজ করছে। জ্বালানি বিভাগ নিয়মিত নজরদারি করছে। আগামী সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে পারে। আপাতত আর কোনো বিকল্প নেই। তবে ভবিষ্যতে জ্বালানির আমদানির্ভরতা কমাতে বিকল্প নিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে।
ধুঁকছে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন
শিল্পমালিকেরা আশঙ্কা করছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারার ঝুঁকিও আছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে চার দিন ধরে গাড়ির সারি কমছে না।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রাশিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কারখানায় ৭৫ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে।
গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক। এক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে, কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।
গাজীপুরের সাদমা গ্রুপের পরিচালক সোহেল রানা বলেন, ৩ থেকে ৪ পিএসআই গ্যাস সরবরাহ থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের চাপ এত কম যে শ্রমিক ও অপারেটরদের অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, সব মিলকারখানা বন্ধ প্রায়। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎও নেই। কত দিন থাকবে না, সেটা সরকার ঘোষণা দিতে পারে। তাহলে শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে ছুটি দেওয়া যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও আশপাশের এলাকায় আবাসিকসহ সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট ও নিম্নচাপের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক ও যানবাহনের চালকেরা। ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মাত্র ২ থেকে ৪ পিএসআই চাপ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সময় তা শূন্য থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে আসে। কয়েক দফা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, এতে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘গুরুতর অনেক প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ইসলামী ব্যাংক দখলে এস আলম গ্রুপকে সহায়তা করাসহ বিভিন্ন বিষয় এখন সামনে চলে আসছে। দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগও কম নয়। শুধু তাই নয়, গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে জুলাই গণহত্যায় তার সমর্থন থাকার বিষয়টিও। সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারিতে মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে শুনানিও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় দায়মুক্তি দেওয়ায় মো. সাহাবুদ্দিনকে এসব অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে কি না-সেই প্রশ্ন এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সংবিধানে রাষ্ট্রপতি থাকার কার্যকালকে দায়মুক্তি দেওয়া আছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনের আগের ও পরবর্তী জীবনের কর্মকাল নিয়ে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেটি অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। বিশেষ করে এখন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার থাকার কর্মকাল; ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় তিনি যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে যদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগ ওঠে, সেটি অবশ্যই স্বচ্ছতা-জবাবদিহির প্রশ্নে তদন্ত হওয়া উচিত। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমে বিদায়ি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে, সে বিষয়ে নিজের ইমেজ সুরক্ষার প্রশ্নে ওনারই (মো. সাহাবুদ্দিন) উচিত হবে সরকারের কাছে তদন্তের দাবি করা।
সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনার ও বিচার ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া এস আলম গ্রুপসংশ্লিষ্ট জেএমসি বিল্ডার্সেরও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এসব দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, এস আলম গ্রুপকে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারে সহায়তা করাসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণসাপেক্ষে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার সুযোগ রয়েছে। কারণ হিসাবে তারা এও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগের অনিয়ম ছাড় দেওয়া হলে দেশে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুতে আন্দোলনেরও সুযোগ পাবে। তবে তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে মো. সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকার না চাইলে কিছুই হবে না।
যদিও মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে রোববার সরকারের দুই মন্ত্রী দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে জনস্বার্থ বিবেচনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় স্বৈরাচারের শেষদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড; তার (ইনডেমনিটি) দায়মুক্তি আছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।
মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ যথাযথ তদন্ত করে তার বিচার করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময়কার কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাষ্ট্র যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তখন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএফআইইউ-এর প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা সত্য হয়ে থাকলে এ নিয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। দেশে ব্যাংকিং সেক্টরের লুটপাটের হোতা এস আলমের ঘটনায় বিশাল চক্র রয়েছে। সবাইকে আইনের আওতায় আনা দরকার। নইলে এস আলমকে রক্ষা করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক।
কালের কণ্ঠ
‘চীনা শিল্পনগরে বড় বিনিয়োগ লাখো কর্মসংস্থানের হাতছানি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থায়নসংক্রান্ত নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)।
প্রায় ৮০০ একর জমির এই শিল্পাঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠান আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প ঘিরে অন্তত ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে চীনা বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে আনোয়ারায় অনুষ্ঠেয় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রাউন্ডব্রেকিং শুধু একটি শিল্পাঞ্চলের নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হওয়ার পর এই প্রকল্প ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হলেও ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন প্রকল্পটি অগ্রসর হয়নি। শুরুতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানির সঙ্গে আলোচনা হলেও পরে ২০২২ সালে চীনা সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) প্রকল্পের ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়।
একই সফরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ মোংলা বন্দরের পাশে নতুন চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চীনের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি) সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বদলে যাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসএসসি, এইচএসসিসহ সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। এর অংশ হিসেবে উত্তরপত্র মূল্যায়নকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ সংশোধন করা হবে। নতুন এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা প্রথম দফায় শিক্ষকদের মূল্যায়নের পর দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক খাতা অন্য পরীক্ষক যাচাই করবেন। এতে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কমবেশি করার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন এ পদ্ধতিতে আরও একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফল প্রকাশের পর খাতা চ্যালেঞ্জ করা হলে আর পুনর্নিরীক্ষা নয়; নতুন করে খাতা দেখা হবে। বর্তমান পদ্ধতিতে শুধু নম্বর দেখে যোগ করে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু সমকালকে বলেন, বর্তমানে ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা শুধু পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করতে পারেন। নতুন পদ্ধতিতে, খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন। বিদ্যমান ব্যবস্থায় শুধু নম্বরগুলো যোগ করে দেখা হয়। অথবা দেখা হয়, সব প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা। নতুন ব্যবস্থায় পুরো খাতা নতুন করে দেখে নম্বর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকেই এই বিধান কার্যকর করা হবে।
পরীক্ষকের দায়িত্ব মূল্যায়নেই শেষ নয়
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে বোর্ডে জমা দেওয়ার পর সেটি সাধারণত পুনরায় দেখা হয় না। ফলে মূল্যায়নে ভুল বা অবহেলা থাকলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধরা পড়ে না। নতুন ব্যবস্থায় সেই চিত্র বদলাবে।
বোর্ডে জমা পড়া উত্তরপত্র থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক খাতা নির্বাচন করা হবে। পরে বোর্ড মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা প্রধান পরীক্ষকরা সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করবেন। দুই মূল্যায়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো নতুন পরীক্ষা নয়; বরং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
আইনে যুক্ত হচ্ছে ‘মূল্যায়নে অবহেলা’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী, এতদিন যেখানে পাবলিক পরীক্ষা আইন মূলত প্রশ্ন ফাঁস, নকল বা পরীক্ষা পরিচালনার অনিয়মকে কেন্দ্র করে ছিল, সেখানে এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে বা গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীর প্রাপ্য নম্বর কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিলে কিংবা মূল্যায়নের নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তিনি শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নয়, আইনি জটিলতারও মুখোমুখি হতে পারেন।
কেন এ সিদ্ধান্ত
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতিবছর কিছু পরীক্ষক নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত উত্তরপত্র গ্রহণ করেন। অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে মান বজায় থাকে না। কোথাও কোথাও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্যের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের অভিযোগও রয়েছে। অতীতে নম্বর হেরফের, ওভার-মার্কিং, আন্ডার-মার্কিং এবং দায়িত্বে অবহেলার একাধিক ঘটনা শিক্ষা বোর্ডের নজরে এসেছে। এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশ’। খবরে বলা হয়, দৈনন্দিন জীবনের অতি আবশ্যিক অনুষঙ্গ টুথপেস্ট। অথচ এই পণ্যটিই এখন পরিণত হয়েছে বিষাক্ত প্লাস্টিকের এক নীরব বাহকে। সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)-এর প্রকাশ করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য- বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) রয়েছে অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা বা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। শিশুদের পেস্ট থেকে শুরু করে সংবেদনশীল দাঁতের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ টুথপেস্ট- কোনোটিই বাদ যায়নি এই মারাত্মক দূষণ থেকে।
বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা ও ঝুঁকি নিয়ে আগে কখনো কোনো জাতীয় মানদণ্ড বা নিয়মিত নজরদারি ব্যবস্থা ছিল না। এই বড় ফাঁকটি পূরণে এসডো এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরি যৌথভাবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরব্যাপী বিস্তৃত গবেষণা ও পরীক্ষা পরিচালনা করে।
গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ, মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা: মো: মোশাররফ হোসেন খন্দকার এবং বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
গবেষণায় সারা দেশের দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর মাঠপর্যায়ের সচেতনতা জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনা হিসেবে সংগৃহীত হয়। বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (ঋঞওজ) ব্যবহার করে নমুনাগুলোর ল্যাব পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
ফলাফলের বিস্তারিত ও উৎসভিত্তিক চিত্র
পরীক্ষিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়ে এবং মাত্র আটটি (২৩.৫ শতাংশ) পণ্যকে মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত পাওয়া গেছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা বিদ্যমান।
দেশী ও আমদানিকৃত পণ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশী পণ্যের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা পেস্টগুলোতেও এই কণার ব্যাপক উপস্থিতি মিলেছে।
বাংলাদেশ: ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই (৮৮%) মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলছে।
ভিয়েতনাম: সংগৃহীত দু’টি নমুনার দু’টিতেই (১০০%) ক্ষতিকর কণা উপস্থিত।
থাইল্যান্ড: দু’টি নমুনার মধ্যে একটিতে (৫০%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
ভারত: পাঁচটি পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে একটিতে (২০%) মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
শিশু স্বাস্থ্যের জন্য চরম আতঙ্ক
উদ্বেগের সবচেয়ে বড় জায়গা তৈরি হয়েছে শিশুদের মুখগহ্বরের যতœ নিয়ে। কোমলমতি শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি বিশেষ টুথপেস্টের চারটিতেই (৬৬.৭ শতাংশ) ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে। শিশুরা দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রায়ই ফেনা গিলে ফেলে, যার ফলে এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি তাদের পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে শৈশব থেকেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বণিক বার্তা
‘আশ্রয় চাওয়া বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিতে চায় ইউরোপীয় পাঁচ দেশ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ।
জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
পাঁচটি দেশের মধ্যে গ্রিস রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বছরই গ্রিসসহ বাকি চার দেশ রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সামনের বছরই এ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশন থেকেই পাঁচ দেশের এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এ আইনি কাঠামোয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের নিজ দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের অস্থায়ীভাবে এসব রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং এশিয়ার উজবেকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউই এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় ও বিদেশে কর্মরত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, তাদের ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা। সেখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার খুবই কম, যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক। বর্তমানে প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩-৪ শতাংশ। তৃতীয় দেশে রিটার্ন হাবে পাঠানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ-সংক্রান্ত রেগুলেশন এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার যে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেটি কার্যকর হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশীদের নতুন আশ্রয় আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আসবে।’
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিটার্ন রেগুলেশন অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলো প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন এ সময়ের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ: কর্মকর্তাদের রেষারেষিতে রাজনৈতিক নিয়োগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের পর বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে প্রশাসক করে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে বিএনপি সরকার। এবার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদেও দলের নেতাদের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলো। সরকারি পদগুলোতে এভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিয়োগে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের রেষারেষিকে দুষছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
সবশেষ ২৩ জুলাই ১১টি সরকারি দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের পদে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের গ্রেড-২ পদমর্যাদায় এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের ওই পদগুলোতে এত দিন অতিরিক্ত সচিবদের নিয়োগ দেওয়া হতো। কোনো কোনো সময় সরকারের নিয়মিত কর্মকর্তাদের বাইরে থেকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।
সরকারি দপ্তরের শীর্ষ পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগ থেকে এসব পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আকনুর রহমান গতকাল রোববার রাতে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কীভাবে এসব পদে নিয়োগ হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করেন। আমরা নির্দেশনা পেলে শুধু আদেশ জারি করি।’
জনপ্রশাসন বিশেজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া সরকারি দপ্তরের শীর্ষ পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের নিজেদের রেষারেষির কারণেই এভাবে দলীয় লোক বসানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর চট্টগ্রাম বাদে সব সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অন্যদিকে বর্তমান ৮২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিবের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ ২১ জন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রয়েছেন।
দেশ রূপান্তর
‘চাকরিতে নারী কোণঠাসা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা বৈষম্যের অবসানের দাবিতে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জুলাই অভ্যুত্থানের জেরে ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর পর পাঁচটি কোটার মধ্যে দুটি পুরোপুরি বাতিল এবং দুটি আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে সরকারি চাকরিতে যেখানে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল, সেটা এখন কমে নেমেছে ৭ শতাংশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরিতে কোটার যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল। তবে নারী কোটা পুরোপুরি বাতিল কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোটা ১ শতাংশে নামিয়ে আনা সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য মঙ্গলজনক হয়নি।
৫ আগস্টের আগে সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটা থাকার পরও পুরুষের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে ছিলেন। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাম্প্রতিক সুপারিশেও প্রথম (ক্যাডার) ও দ্বিতীয় শ্রেণির (গেজেটেড) কর্মকর্তা পদে নিয়োগে নারীর সংখ্যা কম। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অথবা পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর প্রার্থীরাও এসব চাকরিতে অনেক পিছিয়ে আছেন। পিএসসির একাধিক বার্ষিক প্রতিবেদন ও সবশেষ ৪৭তম বিসিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন বাস্তবতা পাওয়া গেছে।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমও স্বীকার করছেন, সরকারি চাকরিতে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে নারী প্রার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমছে। তবে তিনি মনে করেন, বিষয়টি কোটা বিলোপের কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটছে, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে একটা টাইম সিরিজের (পরপর পাঁচ থেকে সাতটি বিসিএস পরীক্ষা) ডেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। পিএসসি সূত্র জানায়, সবশেষ ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২২ নারী প্রার্থী আবেদন করলেও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উপস্থিত হন ৯০ হাজার ২৬২ জন। তাদের মধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত কৃতকার্য হন মাত্র ২৯৪ জন। একই বিসিএসে ১ হাজার ৪০ জন পুরুষ প্রার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। এই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে গত জুনের শেষদিকে মোট ১ হাজার ৩৩৪ জনকে নিয়োগ দিতে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চূড়ান্ত সুপারিশ করে পিএসসি। তথ্য অনুযায়ী এই বিসিএসে নারীদের নিয়োগের হার ২২ শতাংশ। পিএসসির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩৪তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ নারীদের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ৪১তম বিসিএসে ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ, ৪৩তম বিসিএসে ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ৪৪তম বিসিএসে ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। অর্থাৎ, অতীতে কোটা সুবিধা পেয়েও বিসিএসে নারীদের কৃতকার্য হওয়ার হার ক্রমাগত কমছে। এমন পরিস্থিতিতে কোটা পুরোপুরি বাতিলের ফলে সামনে নারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় নারী প্রার্থীদের সাফল্য অ্যালার্মিংলি (উদ্বেগজনকভাবে) কমছে। এটা কী কারণে ঘটছে, তা এখনই বলা যাবে না। পিএসসির পরীক্ষাগুলোয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। এখানে কাউকে বঞ্চিত করা বা কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি এমন একটা ব্যবস্থা করেছি, যাতে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে কে থাকবেন, তা অন্য কেউ জানেন না। সকালে বোর্ডে এসে তাদের দেখা হয়। লিখিত পরীক্ষার খাতা মুল্যায়নেও সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। আমি এটুকু বলতে পারি, অন্তত আমার সময়ে কোনো বৈষম্য হবে না।’
পিএসসির সদস্য অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি দৃশ্যমান যে সরকারি প্রশাসনে মেয়েদের অংশগ্রহণ ডিক্লাইনিং (ক্রমাবনতি) অর্ডারে আছে। জনপ্রশাসন বলছে, নারীদের সংখ্যা প্রশাসনে মাত্র ২৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিসিএস (বিশেষ করে ৪৫ ও ৪৬তম) পরীক্ষাগুলোতেও মেয়েদের কম উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তারা লিখিত পরীক্ষায় ঝরছেন, মৌখিকে আরও ঝরে পড়ছেন।’
ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান বলেন, ‘কোটা ব্যবস্থা নারীরাই চাননি। অন্তত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেতনা তাই ছিল। কিন্তু এতে নারীরা কি লাভবান হয়েছেন? না। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কোটা দিতে হবে এমনটা বলছি না। তবে অন্য কী করা যায়; কী কী করলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে, তা এখন সিরিয়াসলি ভাবতে হবে।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘চার বিচারপতির কাঁধে ৩৯ হাজার মামলা’। খবরে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র চারজন বিচারপতি। অথচ বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। ফলে একজন বিচারপতির কাঁধে গড়ে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি মামলার চাপ পড়েছে।
আপিল বিভাগে কতজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করবেন সে ব্যাপারে সাংবিধানিক বা আইনগতভাবে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এ বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতির দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে।
মাত্র একটি বেঞ্চ দিয়ে আপিল বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক, ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। আইনজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা ছিল ৩৮ হাজার ৭১৩টি। এর মধ্যে ফৌজদারি মামলা ১৭ হাজার ৬১টি এবং দেওয়ানি মামলা ২১ হাজার ৬৫২টি। গত সাড়ে তিন মাসে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে আপিল বিভাগে চারজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করায় একজন বিচারপতির ওপর গড়ে প্রায় ৯ হাজার ৬৭৮টি মামলার চাপ রয়েছে।
বর্তমানে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় গত ১৫ জুলাই আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম অবসরে গেছেন। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মাত্র দুই সদস্যের আপিল বেঞ্চ বসেছে। ফলে সেদিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিই গ্রহণ করা যায়নি। ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা বাড়ানো এবং বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গত বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে তিনি এ চিঠি পাঠান। আইনজীবীদের মতে, আপিল বিভাগে একটি মাত্র বেঞ্চ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত শুনানির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, একটি বেঞ্চ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। ফলে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আপিল বিভাগে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মামলাজট কমাতে দ্রুত আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চ বসছে, যেখানে একসময় তিন বেঞ্চেও বিচারকাজ পরিচালিত হতো। ফলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। চূড়ান্ত বিচার পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
