বরিশাল সিভিল সার্জনের পদে যোগদানে ছাত্রদের বাধা, কক্ষে তালা

বরিশাল সিভিল সার্জনের পদে যোগদানে ছাত্রদের বাধা, কক্ষে তালা

ফন্ট সাইজ:

বরিশাল সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহিনের যোগদানে বাধা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তার নিয়োগের প্রতিবাদ ও অপসারণ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ডাক্তার মনিরুজ্জামান শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নিকট আত্মীয়। মনিরুজ্জামান হাসানাতের দোসর হিসেবেই কাজ করেছেন। বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না। পরে তারা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন ডা. মনিরুজ্জামান যোগদানের শেষদিন হলেও তিনি অফিসে যোগ দেননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার নির্ধারিত কক্ষের দরজায় প্রতীকীভাবে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, বিতর্কমুক্ত ও সৎ কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক। বিএম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। আমাদের এই আন্দোলন জনস্বার্থেই। শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম করেছেন। জুলুমবাজ, দুর্নীতিগ্রস্তকে বরিশালের মাটিতে দেখতে চাই না। এ সময় দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

গত জুন মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগে নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামানকে টানাটানি করে বের করে দিয়ে তার কক্ষে তালা লাগানো হয়েছে। এর আগে প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর দাবির মুখে তার পদায়ন বাতিল করা হয়। এরপর সিভিল সার্জন হিসেবে আরেক ডাক্তার মনিরুজ্জামান শাহিনকে নিয়োগ দিলে তাকে নিয়েও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন