সিলেটে ভাইরাল শিক্ষিকা বিউটি

সিলেটে ভাইরাল শিক্ষিকা বিউটি

ফন্ট সাইজ:

বিউটি পাল। জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাকে ঘিরে সয়লাব নেট দুনিয়া। একটি গানের টিকটক রিল তাকে ভাইরাল করে দিয়েছে। এ নিয়ে অনেকেই মেতে উঠেছিলেন সমালোচনায়। তবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। লড়াইয়ের ময়দান সেই নেট দুনিয়া। শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরাও ওই গানের শুটিং করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়েছেন। জানান দেন- শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে আছি। এদিকে শিক্ষিকা বিউটি পাল অস্বাভাবিক কিছু করেছেন কিনা, সেটি খতিয়ে দেখছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল। তিনি ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।

তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করা একজন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে তার শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তার শিক্ষা জীবনের কর্মকাণ্ড অনেকের কাছে অনুকরণীয় বলে সহকর্মী শিক্ষকরা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংক্ষিপ্ত এক ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে- শিক্ষিকা বিউটি পাল বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় শাড়ি পরে হাঁটছেন। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি। কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি টিকটকে প্রথমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। দৃশ্যটি নিয়ে প্রথমে প্রবাস থেকে অনেকেই ট্রল করা শুরু করেন। নেট দুনিয়ায় তারা শিক্ষিকাকে সাইবার অ্যাটাক করেন।

প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল জানিয়েছেন- তিনি একজন শিক্ষক। কিন্তু তার আগে তিনি একজন মানুষ। বলেন- একজন শিক্ষক যখন একটি জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন, তখন নিশ্চয়ই ধরে নিতে হয় তিনি তার যোগ্যতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্মের মাধ্যমে এই সম্মান অর্জন করেছেন। এদিকে তার এই ভিডিও নিয়ে ট্রল হওয়ার ঘটনার পর তার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন বিভিন্ন মহল। তবে এর মধ্যে রোববার বেশির ভাগ সরব ছিলেন তার সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষিকারা। তারা বিষয়টি পজেটিভলি নিয়েছেন। বলেন- এখানে সুস্থ চিন্তার বিনোদন। তাদের মতে- ভার্চ্যুয়াল অ্যাটাকে ওই শিক্ষিকাকে বিপর্যস্ত করা হতে পারে।

যেটি কোনো ভাবেই কাম্য নয়। এ কারণে তারা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কয়েকশ’ শিক্ষক ওই গানের রিল ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের হেঁটে চলার ভিডিও দৃশ্য ছেড়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু সাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালী উল্লেখ করেন- একজন শিক্ষকও রক্ত-মাংসের মানুষ। তারও আনন্দ উদ্‌যাপন করার অধিকার আছে, তেমনি কষ্টে মন খারাপ হওয়ার অধিকারও তার রয়েছে। শিক্ষক মানেই কোনো নিরাসক্ত যন্ত্র নন, সমাজ ও পরিস্থিতির প্রভাবে তার মনেও নানা অনুভূতির জন্ম হয়। ঢাকার সাংবাদিক ঝরনা মনি উল্লেখ করেন- বিউটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ওরা ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছে। আমরা এক সঙ্গে বড় হয়েছি।

আমাদের বাড়ির পুকুরে একসঙ্গে সাঁতার কাটতাম। সন্ধ্যাবেলায় ওদের অঙ্ক শেখাতাম। চুল বেনি করে দিতাম। একসঙ্গে গান গাইতাম। ধামাইল নাচ করতাম। তিনি জানান- আমরা স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসই হোক, আর একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসই হোক নাচ, গান, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা হতোই। প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ট্রল হচ্ছে সেটি নিয়ে বিব্রত শিক্ষা কর্মকর্তারা। তবু সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে অসংলগ্ন কিছু করেছেন কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হবে। এ জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানান তিনি। ওই কমিটি ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে। রিপোর্টের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন