বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্দরমহলের অস্থিরতা এবার মাঠের সাংবাদিকতায় বড় আঘাত হেনেছে। বিসিবি আয়োজিত ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’-এর ফাইনাল ম্যাচটি গতকাল পুরোপুরি বয়কট করেন ক্রীড়া সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিকরা। একজন ফটোসাংবাদিককে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দেয়া ‘ওয়ার্নিং লেটার’ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্বার ও ধূমকেতুর মধ্যে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই উত্তপ্ত ছিল গণমাধ্যম কেন্দ্র। বিসিবি’র মিডিয়া বিভাগকে সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। দাবি ছিল, ফটোসাংবাদিক তানভিন তামিমকে দেয়া আপত্তিকর সতর্কবার্তার জন্য বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। এজন্য সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু বিসিবি’র পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর বা দুঃখ প্রকাশ না আসায় ৬টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদকর্মীরা মাঠ ত্যাগ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম ও বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের একটি ভাইরাল ছবিকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে দেখা যায়, বোর্ড সভাপতি ও পরিচালকের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন আরেক পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট। এই ছবি তোলার দায়ে ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি সান’-এর ফটোসাংবাদিক তানভিন তামিমকে ইমেইলের মাধ্যমে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বিসিবি।
ক্রীড়া সাংবাদিকরা বলছেন, এক্রিডিটেশন প্রক্রিয়ায় ছবি তোলা নিয়ে কোনো বিধিনিষেধের কথা আগে জানানো হয়নি। বিসিবি’র এই আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
গতকাল বিকালে মাঠের সংবাদকর্মীরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিসিবি দুঃখ প্রকাশ না করলে ফাইনাল ম্যাচটি পুরোপুরি ‘ব্ল্যাকআউট’ করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সংবাদ, ভিডিও, রিল বা সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হবে না।
বিসিবি’র মিডিয়া বিভাগের প্রধানকে বিষয়টি জানানো হলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো নমনীয়তা দেখায়নি বোর্ড। ফলে সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সাংবাদিকদের এই গণ-বয়কট বিসিবি’র ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিসিবি’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ দেশের পুরো সংবাদমাধ্যম জগৎ। সাংবাদিক নেতাদের মতে, এই ছবি কোনো অপরাধ নয়, বরং বর্তমান বোর্ডের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র মাত্র।
