লিভারপুলকে হারিয়ে আর্সেনালকে হুঁশিয়ারি সিটি কোচের

লিভারপুলকে হারিয়ে আর্সেনালকে হুঁশিয়ারি সিটি কোচের

ফন্ট সাইজ:

ফ্রি কিক থেকে পাওয়া ডমিনিক সোবোসলাইয়ের দুর্দান্ত গোলে জয়ের অপেক্ষা করছিল লিভারপুল। তবে এরপর যা হলো, অ্যানফিল্ড সেসবের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না। দশ মিনিটের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটিকে সমতায় ফেরালেন বার্নার্দো সিলভা। এরপরই পেনাল্টি পায় সিটিজেনরা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা তৃতীয় মিনিটে সফল স্পটকিকে দলের জয়সূচক গোলটি করেন আর্লিং ব্রুট হালান্দ। ফাঁকা গোলপোস্টে মাঝমাঠেরও পেছন থেকে বল জালে পাঠান সিটির রায়ান শেরকি। তবে বলের পেছনে ছুটতে থাকা হালান্দকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সোবোসলাই, বাতিল হয় শেষ গোলটিও। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় তুলে নেয় সিটি। ম্যাচের পর চূড়ায় থাকা আর্সেনালকে এক প্রকার সতর্কবার্তাই দেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপার দৌড় থেকে লিভারপুল পিছিয়ে পড়লো আরও। এদিনের হার অলরেডদের আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলার স্বপ্নেও বড় ধাক্কা দিলো। ২৫ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ৮ হারে ৩৯ পয়েন্টে তালিকার ছয়ে রয়েছে লিভারপুল। অন্যদিকে চূড়ায় থাকা আর্সেনালের (৫৬) সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে এনে সিটি। ২৫ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট গার্দিওলার দলের। দলগুলোর ম্যাচ বাকি এখনও ১৩টি করে। এর মধ্যে অনেক কিছুই হয়ে যেতে পারে বলে বিশ্বাস গার্দিওলার। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘আমরা ছয় পয়েন্ট পেছনে আছি। হ্যাঁ, এটি বড় পার্থক্য, তবে অনেক কিছু হতে পারে। সুতরাং, এ তিন পয়েন্ট পাওয়া ভালো।’ আর্সেনালকে সতর্ক করে সিটি বস বলেন, ‘কে জানে, (আর্সেনালের জন্য) ছয় পয়েন্ট যথেষ্ট কি না। তবে ১৩ ম্যাচ অনেক এবং এফএ কাপ আছে। কারাবাও কাপের ফাইনালও। মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফিরছে এবং চোটের ঘটনাও ঘটতে পারে।’ অ্যানফিল্ডে ম্যাচজুড়ে ৫৪ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখা সিটি গোলের দিকে ১৬টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে রাখে ৭টি। লিভারপুলের ১৫টির মধ্যে ৫টি শট থাকে লক্ষ্যে। আক্রমন-প্রতি আক্রমণের মধ্যে ৪২তম মিনিটে সফরকারীদের ডি বক্সে সিলভার ধাক্কায় পড়ে যান মোহাম্মদ সালাহ। তবে পেনাল্টির জোরাল আবেদন জানিয়েও রেফারির সাড়া পায়নি স্বাগতিকরা। গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুদল। মাঠে ফিরে ফের শুরু হয় সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই। ৭৪তম মিনিটে সেই চোখধাঁধানো গোলটি করেন সোবোসলাই। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া এ হাঙ্গেরিয়ান ফরোয়ার্ডের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে জড়ায় সিটিজেনদের জালে। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে চারটি গোল করলেন সোবোসলাই। ২০১২-১৩ মৌসুমের পর অলরেডদের জার্সিতে এটি সর্বোচ্চ। সে মৌসুমেই পাঁচবার জাল খুঁজে নিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। নির্ধারিত সময়ের মিনিট ছয়েক আগে হালান্দের হেডে গোলকিপারকে ফাঁকায় পেয়ে পরাস্ত করেন সিলভা। চলতি মৌসুমে লীগে এটি পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের প্রথম গোল। যোগ করা প্রথম মিনিটে মাথেউস নুনিয়েজকে অলরেড গোলকিপার অ্যালিসন বেকার ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিক থেকে দলের জয়সূচক গোলটি এনে দেন হালান্দ। লীগে তিন ম্যাচ পর জালের দেখা পান এ নরওয়েজিয়ান তারকা। এরপরের ঘটনাপ্রবাহে যোগ করা সাত মিনিটের ম্যাচ চলে ১৫ মিনিট পর্যন্ত। শেষ বাঁশি বাজার পর উল্লাসে মাতে সিটিজেনরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন