কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ ঘিরে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ

নোবিপ্রবি

কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ ঘিরে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকরা- এমন অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ ইস্যুকে সামনে রেখে তারা দীর্ঘদিন পর আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুমকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ পদে বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেয়া হতে পারে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের মধ্যে তৎপরতা বেড়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুমকে কেন্দ্র করে তারা নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়েছে। কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল-এর সক্রিয় সদস্য টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জামসেদুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপে দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের উদ্যোগ পীড়াদায়ক ও লজ্জাজনক। একই সঙ্গে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে একাই কর্মসূচিতে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সহকারী অধ্যাপক জামসেদুল আলম দীর্ঘদিন ধরেই নীল দলের সক্রিয় নেতা। নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তিনি সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। যদিও গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে তিনি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার ও অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এদিকে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের আরেকটি সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের নেতা এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সালামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজস্ব শিক্ষককেই কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশের শিক্ষকদের অভিযোগ, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিকে সামনে রেখে প্রকৃতপক্ষে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকরা নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি পুনরায় দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছেন।

তাদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে পদে বসানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা একটি রাজনৈতিক বলয়কে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগও এর সঙ্গে জড়িত। এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুম বলেন, এ রকম কোন মানববন্ধন হবে তা আমার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক আছেন। কে কী উদ্দেশ্যে এসব তথ্য ছড়াচ্ছেন আমার জানা নাই। নিজেকে বিএনপিপন্থী শিক্ষক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে আমি শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে বিবৃতি দিয়েছিলাম যা পত্রিকায় নিউজও হয়েছিল। কতিপয় শিক্ষক ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, কিন্তু এসব স্ট্যাটাসে সরাসরি আমার নামও উল্লেখ করা হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন