মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি এএইচএম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যায় জড়িতদের ধরতে প্রশাসনকে ১৫দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সিনিয়র এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমি প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময় দিলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), এই দেশের যত ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ, সবাইকে আমি বলছি, ১৫দিনের মধ্যে যদি জাহাঙ্গীরের সমস্ত খুনীদের যদি বের করতে না পারেন, সঠিকভাবে মিথ্যাভাবে না। আমি কারো উপরে অবিচার হোক সেটা চাই না। যদি বের করতে না পারেন, তাহলে কিন্তু ঘটনা ভিন্নরকম ঘটবে।
শনিবার সন্ধ্যায় মিঠামইন বাজার বালুর মাঠে মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি এএইচএম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর-এর স্মরণে নাগরিক শোকসভায় সভাপতির বক্তৃতায় ফজলুর রহমান এমপি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি সবার আগে দেখবো জাহাঙ্গীর হত্যার সঠিক বিচার। এই কাজটাই আমি করতে চাই। জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনোদিন আমরা শান্ত হবো না। বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, আমি কিন্তু এখন পর্যন্ত স্টেপ নেইনি। মিঠামইনের ওসি, কিশোরগঞ্জের এসপি সাহেব এবং কিশোরগঞ্জের ইন্টিলিজেন্স আমাকে বার বার কথা দিচ্ছেন- ‘আমরা অবশ্যই সবকিছু বের করে দিবো, আপনারা অস্থির হইয়েন না, চিন্তা কইরেন না, আমরা বের কইরা দিবো খুব দ্রুত’। আমি অপেক্ষা করে আছি। যদি বের করে দিতে না পারে, আমি যেখানে যাওয়ার সেখানে যাবো।
এটা বের করবোই। যদি জাহাঙ্গীরের হত্যার বিচার সঠিকভাবে উদঘাটন করতে না পারি, তার তদন্ত সঠিকভাবে না করাতে পারি, আমি এমপিগিরি ছাইড়া দিমু। নাগরিক শোকসভায় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাজাহরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এবং বিভিন্ন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মাজাহরুল ইসলাম এমপি বলেন, জাহাঙ্গীরের হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী এবং এই হত্যাকার পিছনে যারা অর্থ যোগান দিয়েছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। জাহাঙ্গীর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে মিঠামইন উপজেলায় রাজনীতি করেছেন, তার অবদান আমরা ভুলতে পারি না। শোকসভায় হাজার হাজার শোকাহত নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ই জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় বাসার সামনে বিএনপি সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা সদরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার তিন ভাড়াটে খুনিসহ পাঁচ আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রিমান্ডে থাকা পাঁচ আসামি হচ্ছে, বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২), একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) ও একই উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)। তাদের মধ্যে মো. হেলাল, মহিন উদ্দিন ও মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল এই তিন ভাড়াটে খুনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া মহিন উদ্দিন ও মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে স্পিডবোটে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সহায়তা করায় স্পিডবোট চালক আব্দুর রউফ এবং স্পিডবোট ভাড়া করা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
