বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই আসতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি

সহযোগীদের খবর

বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই আসতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই আসতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সেদিকে। সরকার গঠনের পর থেকেই এ পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও গত দুই দিনে সম্ভাব্যদের তালিকায় নতুন কয়েকটি নাম যুক্ত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, সম্ভাব্যদের তালিকা এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত।

সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—এমন একটি সূত্র গতকাল প্রথম আলোকে জানিয়েছে, বাইরে থেকে নয়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। ওই সূত্র জানিয়েছে, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে অত্যন্ত সন্তর্পণে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সম্ভাব্য অনেকের নাম আলোচনায় আসে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় এসেছে। অতি সম্প্রতি এ আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও যুক্ত হয়। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় আসে।

বিএনপি দলীয় ও এর বাইরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিকূলতাসহ নানা বিবেচনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির আলোচনায় পিছিয়ে পড়েছেন। গত দুই দিনে সেখানে জোরালো হয়ে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নতুন মুখের আলোচনার মধ্যে নানা বিবেচনায় দলের ভেতরের একটা অংশ মির্জা ফখরুল ইসলামকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে।

একই সঙ্গে রাজনীতির বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলামের শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ্য মনে করেন। তাঁদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে মনোভাব ব্যক্ত করে লিখেছেনও। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলামকে ‘সেরা প্রার্থী’ বলে মন্তব্য করেন। ‘বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন?’ শিরোনামে গতকাল তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মতে, ‘বিএনপিতে উপযুক্ত আরও কেউ কেউ আছেন। তবে আমার মতে, সব দিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তিনি সম্ভবত সেরা প্রার্থী।’

এর আগে ব্র্যাক, বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এক ফেসবুক পোস্টে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন অন্যদের চেয়ে যোগ্যতর ব্যক্তি, সেটি তুলে ধরেন।
 গতকাল মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়মে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার কথা। গত কয়েক দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সব মহলে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশ না করা পর্যন্ত এ আলোচনা চলবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে এখনো সময় রয়েছে। রাজনীতির বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ফলে আজ যাঁরা আলোচনায় এগিয়ে আছেন, সময়ের ব্যবধানে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তিতও হতে পারে।
এসব বিবেচনায় রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অনেকে বলছেন, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতেই থাকবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বিতর্কে শুরু বিতর্কেই সমাপ্তি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন তখন সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম ছিল না। হঠাৎ করে তাকে রাষ্ট্রপতি করায় আওয়ামী লীগের ভেতর তুমুল বিতর্ক উঠেছিল। এছাড়া তার কর্মজীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও তুমুল সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল। ওই সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কদমবুসি করার কথা নিজ মুখে গণমাধ্যকে বলে নগ্ন চাটুকারিতা প্রকাশ করেন এবং তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এভাবেই বিতর্কের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

আলোচনার বাইরে থাকা একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি বিতর্কের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। তার মেয়াদকালে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য, শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ভূমিকা, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র প্রসঙ্গে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার তাকে বারবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

সবশেষ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করার পর বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ শরিকরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর দাবি তোলে। সংসদ ও সংসদের বাইরে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। সবকিছুর শেষ হলো শুক্রবার, সেটাও বিতর্কের মাধ্যমে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবিধানিক পদের ভারত্ব বজায় না রেখে নানা কথা বলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পুরো মেয়াদজুড়েই একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, তিনি কি সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছিলেন? রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, কয়েকটি বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে তার সমর্থকদের দাবি, তিনি সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন এবং সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও নতুন বিতর্ক: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে। সরকার পরিবর্তনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পথ তৈরি করার ক্ষেত্রে সবকিছু করেন। পরে আবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর ওই সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাকে জোর করে কাজ করিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।

শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র বিতর্ক: গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র প্রসঙ্গে তার বক্তব্যকে ঘিরে। ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো প্রামাণ্য কপি তার হাতে ছিল না এবং তিনি তা সংগ্রহ করতে পারেননি। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। ওই সময়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ বক্তব্যকে অসত্য বলে মন্তব্য করেন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির ওই বক্তব্যের সঙ্গে সরকার একমত নয়। বিষয়টি তার সাংবিধানিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

সাক্ষাৎকারেই বাড়ে বিতর্ক: দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারও তাকে বিতর্কের মুখে ফেলে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার অপসারণ চেয়ে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়।

সংসদে ভাষণ বিতর্ক: আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি হয়ে সংসদে বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দেওয়ায় তার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিব্রত হন। তা নিয়ে সর্বমহলে তুমুল সমালোচনা হয়। তবুও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের সদস্যদের একাংশ প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, রাষ্ট্রপতির ভাষণে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়নি। যদিও রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরকারের প্রস্তুত করা নীতিগত বক্তব্য হিসাবেই সংসদে উপস্থাপিত হয়।

কালের কণ্ঠ

‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংবিধানিক পথেই এগোবে বিএনপি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের ২৩তম অর্থাৎ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে প্রবল জল্পনাকল্পনা। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, এ নিয়ে করা হচ্ছে নানা সমীকরণ।

তবে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া করবে না বিএনপির হাইকমান্ড। সাংবিধানিকভাবেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবে তারা। এ বিষয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা সরাসরি কথা বলতে নারাজ। নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা আছে, সিনিয়র নেতারা যেন রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে কোনো কথা না বলেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এদিকে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব এবং সংকটকালে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনড় থাকার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বাধিক বিবেচনা করা হচ্ছে। দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও তাঁকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এমনটাও জানিয়েছেন দলের একাধিক প্রথম সারির নেতা। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি ভেবেচিন্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড। দলীয় নেতাদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে দলের মহাসচিবের নাম সবার আগে আসে। কারণ দুঃসময়ে তিনি দলের হাল ধরেছেন সামনের সারিতে থেকে। জেল-জুলুম, নির্যাতন উপেক্ষা করে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। মির্জা ফখরুল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও তাঁর দৃঢ় অনুগত্য রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির কারণে তিনি দলের ভেতরে-বাইরে সমান গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি পদে আরো আলোচনায় রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম। মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি পদে এই মুহূর্তে মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ছাড়া বিকল্প ভাবা হচ্ছে না।’

বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে জানান, ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। হাতে এখনো ৮৯ দিন সময় আছে। দলীয় প্রধান এই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তাড়াহুড়া করার কিছু নেই। তবে আশা করি, দুই মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ জ্যেষ্ঠ নেতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এই নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সরকার ও বিএনপির উচ্চ পর্যায় একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে বেছে নিতে চান।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন নিয়ে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিএনপির তরফ থেকে সিদ্ধান্তমূলক কোনো বার্তা পাওনা যায়নি। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আসছে। সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন আমলার নাম শুরু থেকে আলোচনায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কে তাঁর উত্তরসূরি হবেন–সেটা মূলত প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসবে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। তারা হলেন– দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান।

তবে এবার যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন তিনি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকবেন। তাই সরকারি দলের কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল ও দলের বাইরের অনেকে মনে করেন, এখন পর্যন্ত তিনিই এ পদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। তবে তিনি নিজে এ পদে যেতে চান কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। দলটির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বিভিন্ন সময় দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনিও অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। বয়োজ্যেষ্ঠ এই নেতা সজ্জন হিসেবে দল ও দলের বাইরে পরিচিত। তিনিও বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় আছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি আছে তাঁর। বাকি তিনজন সংসদ সদস্য হলেও তিনি তা নন।

সাবেক এক প্রধান বিচারপতি ও একজন আমলার নামও আলোচনায়

বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতার বাইরে একজন আমলার নাম শুরুতে আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে অবসরে যাওয়া একজন প্রধান বিচারপতির নাম আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা দলের জন্য স্যাক্রিফাইস (ত্যাগ) করেন, তারা রাজনীতি বোঝেন। সুতরাং সেখান থেকেই আসা উচিত।’

দিলারা চৌধুরীর মতে, এটা মূলত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। তিনি কাকে পছন্দ করেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে রাষ্ট্রপতি যিনিই হোন, তাতে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না।

ইত্তেফাক

‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দায়িত্বে স্পিকার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই পদত্যাগ করলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকালে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাত্ক্ষণিক জাতীয় সংসদে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিকাল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন রাষ্ট্রপতি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হূদেরাগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হূদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিত্সা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি বেশ আগেই জানিয়েছিলেন অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটেছিল। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি আরো লিখেছেন, ‘আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তত্কালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকসংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিকসংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’

এর আগে চিকিত্সার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার ফেরার জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই গত বুধবার বিকালে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারকে দেশে বা সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে, সংবিধানে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে দায়িত্ব নিতে হয়। সে কারণে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে স্পিকারকে শুক্রবার দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয় বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে গতকাল শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরলেও দাবি করেন, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি এ-ও বলেন, সাংবাদিকরা যেমন শুনেছেন, তিনিও তেমনই শুনেছেন। তার কয়েক ঘণ্টা পর মো. সাহাবুদ্দিন ইস্তফা দেওয়ায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব এখন হাফিজ উদ্দিন আহমদেরই কাঁধে পড়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা চলে যান ভারতে। শেখ হাসিনা আমলের কোনো কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও বঙ্গভবনে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন। তাকেই সংসদ বিলুপ্ত করার আদেশ দিতে হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়াতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে অধ্যাদেশে পরিণত করতে তাকেই সই দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়েছে। অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠন গত অক্টোবরে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলনও শুরু করেছিল। কিন্তু ‘সাংবিধানিক সংকট’ এড়াতে সরকার তাকে আর সরানোর পথে যায়নি।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘রাষ্ট্রপতি পদে যারা আলোচনায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মো: সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাজনীতিবিদদের থেকেই হতে পারেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেয়া উচিত। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবেলা, সরকার ও বিরোধী দলের সাথে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

এ দিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা লেখেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন? আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।

স্ট্যাটাসে ড. আসিফ নজরুল আরো লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তার দীর্ঘ বোঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তিনি ছিলেন সন্তানসম একজন। শেষে তিনি লেখেন, বিএনপিতে উপযুক্ত আরো কেউ কেউ আছেন। তবে আমার মতে, সবদিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তিনি সম্ভবত সেরা প্রার্থী।

বণিক বার্তা

‘যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে কার্যকর, শুল্ক অন্তত ২৫%’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যথাযথভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার অভিযোগে বাংলাদেশী পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশী রফতানি পণ্যের ওপর কার্যকর মোট শুল্ক গিয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৫ শতাংশে। আগে বাংলাদেশী পণ্যে গড়ে ১৫-১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এর সঙ্গে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক যোগ হয়েছে।

নতুন শুল্কে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করছেন রফতানিকারকরা। কারণ এতদিন সেকশন ১২২-এর আওতায় থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক ছিল, তার পরিবর্তে এখন একই হারে সেকশন ৩০১-এর শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শুল্কের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপে তৎপরতা শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয়। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর বসানো হয় বিভিন্ন হারে এ শুল্ক। শুরুতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং একপর্যায়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের (এআরটি) পর শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১৯ শতাংশ শুল্ক পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন।

সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন। আইন অনুযায়ী, এ শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন বহাল রাখা যায়। সে মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে পরিচালিত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) তদন্ত।

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইউএসটিআর গত ১২ মার্চ তদন্ত শুরু করে। জনমত, প্রকাশ্য শুনানি, সংশ্লিষ্ট সরকারের মতামত এবং উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে ২ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ইউএসটিআর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিসে গত বৃহস্পতিবার নতুন এ শুল্ক ঘোষণা করা হয়, যা ওয়াশিংটন সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এ শুল্কহার থেকে অব্যাহতি পাবে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: অবশেষে সাহাবুদ্দিনের বিদায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তাঁর পক্ষে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়। সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পরে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং নিজের দায়িত্ব গ্রহণ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। দৃশ্যত এই প্রক্রিয়ার জন্যই থাইল্যান্ডে অবস্থান সংক্ষিপ্ত করে দুদিন আগে ফিরতে হয় স্পিকারকে।

গতকাল বিকেল ৫টা ১ মিনিটে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন ও প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। স্পিকার তা গ্রহণ করেন এবং এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনের আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফের একাধিক প্রটোকল গাড়ি সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। এ ছাড়া সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকারের বাসভবনেও নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ভবনের প্রধান ফটকে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে গেট। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ভবনের চারপাশে অবস্থান নেন।

সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পৌনে পাঁচটার পরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব। পরে তাঁরা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার) কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষেও বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেখানে প্রবেশপথে আর্চওয়ে গেট এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। সাড়ে পাঁচটার দিকে সংবাদ সম্মেলনস্থলে আসেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংবাদ সম্মেলনে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয় কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রক্রিয়া এবং বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে নিজে থেকে কিছু কথা বললেও সাংবাদিকদের তরফ থেকে আসা মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভোগার কথা লিখেছেন। তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হওয়ার কথাও পদত্যাগপত্রে জানানো হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন বলে উল্লেখ করেছেন। এসব রোগের প্রকোপ এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না বলে পদত্যাগপত্রে লিখেছেন সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। দেখা গেল যে, ... তিনি শারীরিক অসমর্থের কারণে পদত্যাগ করেছেন। আমি তাঁর মঙ্গল এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করি।’

দেশ রূপান্তর

‘তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি স্টেশনের দীর্ঘ লাইন’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের ত্রুটি শনাক্ত করতে পারেনি বিশেষজ্ঞ দল। টার্মিনালটি কবে থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে, তাও কেউ জানে না। অর্ধেক আরএলএনজি সরবরাহ নিয়ে ভয়াবহ গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

গ্যাস না থাকায় রাজধানীর বাসাবাড়ির চুলা জ্বলছে না। সিএনজি স্টেশনের বাইরে লম্বা লাইন ধরেছে গ্যাসচালিত গাড়ি। সিএনজি স্টেশন মালিকরা বলছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় তারা ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন। কোথাও কোথাও থমকে গেছে শিল্পের চাকা।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল)-এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিএমজি (প্রকৌশলী) মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন গতকাল শুক্রবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানান, বলার মতো এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও রোমানিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ এনেছে। তারা টার্মিনালটি পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু ত্রুটি এখনো শনাক্ত করতে পারেননি। ত্রুটি শনাক্তের পর তা ঠিক করতেও সময় প্রয়োজন হবে। সংগত কারণে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, কখন সরবরাহ বৃদ্ধি করা যাবে।

গত বুধবার জ্বালানি বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীর দুটি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কথা জানায়। তখন আশা করা হয়, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টার্মিনালটিতে ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় টার্মিনালটি অগ্নিকাণ্ডে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংকট কাটিয়ে বুধবার ভোররাতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশায় আরপিজিসিএলকে বার্তা দেয় এক্সিলারেট এনার্জি। কিন্তু টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য দেশে থাকা এক্সিলারেট এনার্জির প্রকৌশলীরা ব্যর্থ হলে বিশেষজ্ঞ ডেকে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে সেই বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে মহেশখালীর টার্মিনালে পৌঁছেছেন। কিন্তু তারা এখনো ঠিক কী কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পারেননি বলে জানিয়েছে আরপিজিসিএল।

তবে পেট্রোবাংলা শুরু থেকেই এ ঘটনায় একেবারে চুপ রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির উদ্যোগ সম্পর্কে তারা নিজেরাও কিছু জানায়নি। এমনকি বারবার চেষ্টা করেও পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও এত দিন সরবরাহ করা হচ্ছিল গড়ে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে সাম্প্রতিক সংকটে সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৬৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট দৈনিক ঘাটতির মধ্যে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কমেছে। এতে করে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।
সংকট সামাল দিতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমানো হয়েছে গ্যাসের সংকট সামাল দিতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দেখা গেছে, গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমানো হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে দেশে গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৯৪১ মেগাওয়াট। সাধারণ সময়ে যত সংকটই থাকুক না কেন, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন থাকে প্রায় ৫ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন