চট্টগ্রামে জুলাইয়ে ৬ মাসের রেকর্ড ছাড়ালো ডেঙ্গু

চট্টগ্রামে জুলাইয়ে ৬ মাসের রেকর্ড ছাড়ালো ডেঙ্গু

ফন্ট সাইজ:

র্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, জুলাই মাসের মাত্র ২৩ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এবার শুধু জ্বর নয়, অনেক রোগী শক সিন্ড্রোম, রক্তচাপ কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা এবং লিভার-কিডনির জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৩শে জুলাই পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫৪ জন। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে আক্রান্ত ছিলেন ২৯৮ জন। অথচ জুলাই মাসের প্রথম ২৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন, যা প্রথম ছয় মাসের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ২ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন পুরুষ এবং একজন নারী।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালিত জরিপে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের সবগুলোতেই এডিস মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, আলকরণ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ বালুচরা, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লা- এই আটটি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, সংগৃহীত মশার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এডিস ইজিপটাই, যা ডেঙ্গুর প্রধান বাহক।
চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রেম্যান নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযানের জন্য ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের প্রয়োজনীয় কীটনাশকের মজুতও রয়েছে বলে জানান তিনি। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, আইভি ফ্লুইড ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন