সিলেট বিএনপিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের তোড়জোড়

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে সাংগঠনিক ভাবে বিএনপি ঝিমিয়ে পড়ছে- এমন অভিযোগ তৃণমূলের। আছে না পাওয়ার বেদনাও। নেতারা অনেকেই এখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদ-পদবিতে। তাদের নাগালও পাওয়া যায় না। এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই অবস্থায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি পুনর্গঠন নিয়ে গত দু’মাস ধরে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রের নেতারা জানিয়েছেন- দলকে চাঙ্গা রাখতে সিলেট জেলা ও নগর বিএনপি’র কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে আলোচনায় আছে জেলা বিএনপি। এরপর মহানগর বিএনপি। দুই ইউনিটের সম্মেলন ও কাউন্সিল ডিসেম্বরের আগেই হতে পারে। তারা জানান- ডিসেম্বরে বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। এই কাউন্সিলকে সামনে রেখে নতুন করে সাজানো হবে সিলেট বিএনপিকে। সিলেট জেলা বিএনপি’র বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। কয়েক মাস আগেই এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

কমিটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তাদের নেতৃত্বে চলা সিলেট জেলা বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে খুব যে বিতর্কিত হয়েছে সেটি বলা যাবে না। বরং আন্দোলনকালীন সময়ে তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের দুর্দিনে কাউন্সিলের মাধ্যমে হাল ধরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তারা সাংগঠনিকভাবে দলকে সুসংগঠিত করে নির্বাচন পর্যন্ত গেছেন।

নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল। এ জন্য নির্বাচনের সময় পুরস্কৃত হয়েছেন জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি সিলেট-৬ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এমপি। আর সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী হয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। জেলার নেতারা জানিয়েছেন- সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় দলের কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে ঘোষিত কর্মসূচি পালনে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য দলের ভেতরে গতি বাড়াতে দ্রুতই সম্মেলনের দাবি উঠেছে তৃণমূলে। তারা জানিয়েছেন- জেলার সভাপতি মুখে না বললেও সিটি প্রশাসক হওয়ার কারণে তার সঙ্গে নগরের নেতাকর্মীদের বেশি সংখ্যতা বেড়েছে। তিনি সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ায় আপাতত মহানগর নিয়েই বেশি ব্যস্ত।

আর সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী দলের এমপি হওয়ার পর নিজ এলাকা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারেই সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। আগামী কমিটিতে তিনি জেলার শীর্ষ পদের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বলে জানান তারা। মহানগর বিএনপি’র কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় ধরলেও এখনো দুই মাস বাকি রয়েছে। আগামী অক্টোবরেই শেষ হবে কমিটির মেয়াদ। তবে নগর নেতারা মেয়াদ শেষ হলেই সম্মেলনের আয়োজন করতে চান। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি পদ নিয়ে নানা নাটকীয়তা হয়েছে। ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন নাসিম হোসাইন। কিন্তু আন্দোলনকালীন সময়ে নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীকে। আন্দোলনে দুঃসময়ে মিফতাহ দায়িত্ব পালন করেন। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে। তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে রয়েছেন। কয়েস লোদী বর্তমানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। তবে দলের সাংগঠনিক কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন। গেল নির্বাচনে নগর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে ধানের শীষের প্রার্থী ও বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে একাট্টা ছিলেন।

কয়েস লোদীও দলের তরফ থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। নগর সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে দলের পদ নিয়ে অ্যাকটিভ ভূমিকায় রয়েছেন। সাম্প্রতিক নগরের ৬ থানা বিএনপি’র নেতাদের বৈঠকের ঘটনায় তিনি দলের শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন- কেন্দ্রীয় ভাবে গোটা দেশেই বিএনপিকে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সিলেট বিএনপি’র নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রের নেতারা বৈঠক করবেন। দলের তরফ থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে। সিলেটের দু’টি কমিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হতে পারে বলে জানান তিনি।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন