দেড় লাখ জনসংখ্যার কুরাসাও আর পাঁচ লাখ মানুষের কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছে। কিন্তু প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশের কাছে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন এখনো অধরা। অপূর্ণতা ঘুচবে কবে সেটাও জানা নেই। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেশের ফুটবল। অর্জনের দিক বিবেচনা করলে আরও পেছনে যেতে হয়। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপাই বড় অর্জন। এরপর সাফের ৯ আসরে একবার ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। সেটিও প্রায় এক যুগ আগে। আট বছর পর ঢাকায় হবে সাফের ১৫তম আসর। ৪ঠা নভেম্বর ঘরের মাঠে হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে ২৩ বছর আগের স্মৃতি ফেরাতে চায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শুরুর তিন মাস বাকি থাকলেও এখনো প্রস্তুতি শুরু করেনি হামজা-শমিত সোমরা।
চলতি বছরের মে মাসে স্যানমেরিনোর মাটিতে তাদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। এরপর ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন লাল-সবুজ দলের ফুটবলাররা। মে মাসের শেষদিকে বাংলাদেশ ফুটবল লীগের ব্যস্ততা শেষে আট সপ্তাহ ধরে বিশ্রামে তারা। নতুন সিজনের জন্য লীগের দলবদল চলছে। বাফুফের একটি সূত্র বলছে, আগস্টের শেষদিকে চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হতে পারে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগকে সামনে রেখে ফর্টিস এফসি ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসি অনুশীলন করলেও বাকি ক্লাবগুলোর ব্যস্ততা নেই। ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটানোর অপেক্ষায় বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেড। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মন সাফের আগে দীর্ঘ বিরতিকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘স্যানমেরিনো ম্যাচের পর লীগের ব্যস্ততা শেষে সবাই বাসায় সময় কাটিয়েছে। নিজেদের ফিটনেস নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করেছে। বিশ্বকাপের বিরতিতে তো ছিলই। শুনেছি আগামী মাসে চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে ঘরোয়া মৌসুম শুরু হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডো ও লীগের মাঝে কিছু ম্যাচ খেলতে পারলে প্লেয়াররা পুরনো উদ্যমে ফিরতে পারবেন।’
ভারতের মাটিতে সাফের সবশেষ আসরে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। কুয়েতের কাছে ১-০ গোলে হেরে ফাইনালে উঠতে পারেননি জামাল ভূঁইয়া-শেখ মোরসালিনরা। ২০০৯ সালে ঘরের মাঠে হওয়া সাফেও শেষ চারে খেলে বাংলাদেশ। সময়ের বিবর্তনে সেই দলে পরিবর্তন এসেছে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলামরা লাল-সবুজ দলে যোগ দেয়ায় শক্তি বেড়েছে। তার উপর এবার নিজেদের চেনা আঙিনায় খেলবে বাংলাদেশ। এ কারণে সাফের এবারের আসর নিয়ে প্রত্যাশা একটু বেশি। সেই প্রত্যাশা রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ। তপু বলেন, ‘অবশ্যই সাফের শিরোপাটা ঘরে রাখতে চাই। কেবল আমিই না। দলের সবারই একই লক্ষ্য।’
ক্যারিবীয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ গায়না হয়ে এখন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি। জার্মানিতে জন্ম নেয়া এ কোচ প্রথম অ্যাসাইমেন্টে সফল। ইউরোপ সফরে জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা। যদিও সফরের আগে শিষ্যদের সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশে অনুশীলন করতে পারেননি। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের কেবল তিনটি অনুশীলন সেশন করাতে পেরেছেন। এটুকু সময়ে দলের হৃদয় জিতেছেন ডুলি। সাফের শিরোপা জয়ের মিশনে তাকে নিয়ে ইতিবাচক পুরো দল। ড্রেসিংরুমের পরিবেশের ব্যাপারে তপু বলেন, ‘ডুলি ভালো মাসের কোচ। তিনি সবাইকে মোটিভেশনের মাঝে রাখেন। তার ট্যাকটিক দলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আশা করছি, সাফের মিশনে তার নেতৃত্বে দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।’ সাফে রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন ভারত। এ পর্যন্ত ৯টি শিরোপা জিতেছে তারা। ভারতের বাইরে কেবল দু’টি শিরোপা আছে মালদ্বীপের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দ্বীপদেশটি। বাংলাদেশ ছাড়া একবার করে এই ট্রফি জিতেছে আফগানিস্তান (২০১৩) ও শ্রীলঙ্কা (১৯৯৫)।
