লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে খুললো বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক টেস্টের দরজা। দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই গ্রাউন্ডে একমাত্র টেস্টে ইংলিশদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টাইগাররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল লর্ডস থেকে ওভালে সরিয়ে নেয়াতেই মূলত সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের জন্য। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) গতকাল নিজেদের আগামী গ্রীষ্মকালীন সূচি প্রকাশ করেছে, যাতে রয়েছে বাংলাদেশ ম্যাচও। আগামী মে মাসের ২৮ তারিখে শুরু হতে যাওয়া এই মহারণ দিয়েই ঘুচবে ইংলিশ কন্ডিশনে লাল বলের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অপেক্ষার আক্ষেপ।

এই ঐতিহাসিক সফর নিয়ে রোমাঞ্চ প্রকাশ করেন ইসিবি’র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড। তিনি বলেন, ‘লর্ডসে একক টেস্টের জন্য বাংলাদেশ পুরুষ দলকে স্বাগত জানাতে আমরা দারুণ উচ্ছ্বসিত, ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধে এটি আমাদের সেরা সুযোগ। একই সঙ্গে, সাদা বলের সিরিজে নারী দলকেও আতিথ্য দেবো আমরা।’ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর দীর্ঘ ২৬ বছরে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড লাল বলে মুখোমুখি হয়েছে মাত্র ১০টি টেস্টে। তথাকথিত ‘বিগ-থ্রি’ কেন্দ্রিক ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম বা এফটিপি’র কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন ছিল অত্যন্ত সীমিত। দুই দল এ পর্যন্ত মোট ৫টি দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজে অংশ নিয়ে খেলেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ৩টি সিরিজের মধ্যে ২টিই ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে জেতে। এবং মিরপুর টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজের অবিশ্বাস্য বোলিং নৈপুণ্যে ১টি সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়। অন্যদিকে ইংলিশ কন্ডিশনে খেলা ৪টি টেস্টের প্রতিটিতেই পরাস্ত হয় বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ৩টিতেই হারতে হয় ইনিংস ব্যবধানে।

হোম ও অ্যাওয়ে কন্ডিশনের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণে অতীতে ইংলিশ পেস, অতিরিক্ত সিম ও বাউন্সে দিশাহারা হয়েছে সফরকারী ব্যাটাররা। তবে লর্ডসের পিচ নিয়ে সামপ্রতিক বিতর্ক সফরকারীদের মনে নতুন আশা জাগাচ্ছে। সমপ্রতি নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটি মাত্র ১৬৬ ওভারে সমাপ্ত হয়। ম্যাচে ৪০টি উইকেটের মধ্যে ২৪টি ছিল বোল্ড ও এলবিডব্লিউ। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে উইকেটকে ‘অসন্তোষজনক’ আখ্যা দিয়ে ১টি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয় আইসিসি। যে কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল স্থানান্তর হওয়ায় বাংলাদেশ এই সুযোগ পেলো। তবে পেস বোলিং ইউনিটের সামপ্রতিক বৈপ্লবিক উন্নতি ও পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস ইংলিশ কন্ডিশনে টাইগারদের অসাধারণ বাড়তি মানসিক শক্তি জোগাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন