ফ্যানদের ভোটে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬

ফ্যানদের ভোটে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা

ফন্ট সাইজ:

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের সেরা একাদশ উন্মোচন করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ফুটবলপ্রেমীর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এই ‘ড্রিম টিম’-এ আধিপত্য বিস্তার করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দল দু’টির তিনজন করে খেলোয়াড় ঠাঁই পেয়েছেন এই তালিকায়। দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে অনুমিতভাবেই একাদশে আছেন। তবে জায়গা হয়নি শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়া ব্রাজিলের কোনো খেলোয়াড়ের।
১. ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে-গোলকিপার):
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথা লিখেছে কেপ ভার্দে। আর তার মূল নায়ক এই অভিজ্ঞ গোলকিপার। গোলপোস্টের নিচে তার অবিশ্বাস্য সব সেভ ও নেতৃত্ব কেপ ভার্দেকে তাদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ সফর উপহার দিয়েছে।
২. পেদ্রো পোরো (স্পেন-রাইট ব্যাক):
চ্যাম্পিয়ন স্পেনের রক্ষণে গতি ও আক্রমণের ধার বাড়াতে পোরোর বিকল্প ছিল না। উইং জুড়ে তার নিরবচ্ছিন্ন দৌড় ও নিখুঁত সব ক্রস স্পেনের আক্রমণের অন্যতম সেরা হাতিয়ার ছিল।
৩. লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা-সেন্টার ব্যাক):
হাই-প্রেসার ম্যাচে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। চমৎকার পজিশনিং ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগেই নস্যাৎ করে দেয়ার ক্ষমতা দিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণের বিশ্বস্ত স্তম্ভ হয়ে ওঠেন তিনি।
৪. দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স-সেন্টার ব্যাক):
টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ফরাসি রক্ষণভাগের মূল চাবিকাঠি ছিলেন উপামেকানো। তার শারীরিক শক্তি ও ট্যাকলিংয়ের সামনে প্রতিপক্ষের বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডরাও সুবিধা করতে পারেননি।
৫. মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন-লেফট ব্যাক):
মাঠের পুরো উইং জুড়ে অসাধারণ ফিটনেস ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন এই স্প্যানিশ তারকা। ডিফেন্স থেকে অ্যাটাক- স্পেনের খেলার ভারসাম্য বজায় রাখতে তার অবদান ছিল অপরিসীম।
৬. রদ্রি (স্পেন-মিডফিল্ডার):
এবারের আসরে বিশ্বের অন্যতম সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন রদ্রি। ম্যাচের টেম্পো নিয়ন্ত্রণ, বল পুনরুদ্ধার এবং আক্রমণের সূচনাÑ সবকিছুতেই স্প্যানিশ এই মূল কারিগর ছিলেন অনন্য। টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বলও (সেরা খেলোয়াড়) শোভা পেয়েছে তার হাতেই।
৭. মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স-মিডফিল্ডার):
ফরাসিদের এই তরুণ প্লে-মেকার ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক পারফর্মার। নিখুঁত পাস ও দূরদর্শীতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে সুযোগ তৈরিতে তিনি ছিলেন এক ধাপ এগিয়ে।
৮. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড-মিডফিল্ডার):
থ্রি লায়নদের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন বেলিংহাম। ডিফেন্সে সহায়তা করার পাশাপাশি আক্রমণে গোলমুখী মানসিকতা তাকে বিশ্ব ফুটবলের
অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
৯. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স-ফরোয়ার্ড):
বিস্ফোরক গতি ও ফিনিশিং দক্ষতার প্রদর্শনী দিয়ে আরও একবার ফুটবল বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। টুর্নামেন্টে ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
১০. আর্লিং ব্রুট হালান্দ (নরওয়ে-ফরোয়ার্ড):
নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রার নেপথ্যে ছিলেন এই গোলমেশিন। ডি-বক্সের ভেতরে তার ক্ষুরধার ফিনিশিং ও শারীরিক উপস্থিতির সামনে প্রতিপক্ষের কোনো ডিফেন্সই স্বস্তিতে ছিল না।
১১. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা-ফরোয়ার্ড):
বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যা বানিয়ে আরও একটি বিশ্বমঞ্চে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট, অনবদ্য গোল এবং নেতৃত্বের ছোঁয়ায় বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা দেখিয়েছেন, কেন তাকে ‘সর্বকালের অন্যতম সেরা’ তকমা দেয়া হয়।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন