সিনেমা, নাটক কিংবা সংগীতাঙ্গন- বিনোদনের প্রতিটি মাধ্যমই যেন অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। নতুন সরকার আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, শোবিজের থমকে থাকা অবস্থান থেকে বের হতে পারবে। কিন্তু সেটি আর হয়নি। বর্তমানে এই তিন মাধ্যমই টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। নতুন চলচ্চিত্রের ঘোষণা আসছে খুবই হাতেগোনা। বড় ছবিগুলো মুক্তির জন্য দুই ঈদকেই বেছে নেন পরিচালক-প্রযোজকরা। কিন্তু সর্বশেষ কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সিনেমাও ব্যবসা করতে পারেনি।
শুধু তাই নয়, যে শাকিব খানের ওপর ভর করে প্রযোজকরা সিনেমায় লগ্নি করছেন, তার সিনেমার অবস্থাও ভালো নয়। গত দুই ঈদে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ ও ‘রকস্টার’ মুখ থুবড়ে পড়েছে। যার ফলে প্রযোজকরা নতুন ছবি নির্মাণে পিছপা হচ্ছেন। শাকিবের বাইরেও সিয়াম কিংবা আফরান নিশোর ছবি নিয়ে আলোচনা হলেও সেগুলো থেকেও লগ্নিকৃত অর্থ উঠে আসছে না। যার ফলে প্রযোজকরা পড়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। দু’টি ঈদে ছবি মুক্তি দিয়ে অনেক প্রযোজকরাই তাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সিনেমার মতো নাটকেরও অবস্থাও অনেকটাই নাজুক। নাটকও তৈরি হয় মূলত দুই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে। কিন্তু নাটকের বাজেট দিন দিন বাড়লেও তা থেকে লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত আসছে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। কথা বলে এমনটাই জানা গেছে নাটকের প্রযোজকদের সঙ্গে। যার ফলে কোরবানির ঈদের পর নতুন তেমন নাটক তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে বড় বাজেট ও আয়োজনের নাটক থমকে গেছে। গত দুই মাসে শিল্পীরাও অনেকটা বেকার সময় কাটাচ্ছেন। অনেক শিল্পী আবার বিদেশে ঘুরছেন কেউবা ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছেন। সিনেমা ও নাটকের চাইতেও খারাপ অবস্থায় রয়েছে সংগীতাঙ্গন। আগের মতো করে শো আয়োজন হচ্ছে না এখন। যার ফলে শিল্পীদের আয়ের প্রধান মাধ্যম থেকে আয় কমে গেছে। তৈরি হচ্ছে না নতুন গানও।
সিনিয়র থেকে শুরু করে চলতি প্রজন্মের শিল্পীদের প্রায় কারোই হাতে কাজ নেই। গীতিকার ও সংগীত পরিচালকরাও ঈদের পর থেকে অনেকটা বেকার সময় কাটাচ্ছেন। কথা বলে জানা গেছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও আপাতত নতুন গানের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন। সবমিলিয়ে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে শোবিজ অঙ্গনে। নাম প্রকাশে
অনিচ্ছুক সিনেমার এক নারী প্রযোজক বলেন, ঈদে অনেক বড় পরিসরে ছবি মুক্তি দিয়েছি। ছবির গল্প, কাস্টিং কিংবা নির্মাণ সবই এ গ্রেডের। যার ফলে বাজেট বেড়েছে। কিন্তু সেই ছবি থেকে অর্ধেক বিনিয়োগও উঠে আসেনি। এদিকে, সংগীত প্রযোজকদের সংগঠন এমআইবি সভাপতি এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি নতুন গান করার। কিন্তু উৎসবের বাইরে গান প্রকাশ করলে সেটা থেকে আয় একদমই হয় না। এমনকি উৎসবের গান থেকেও বিনিয়োগ উঠে আসছে না। সেটা যদি না হয়, তবে প্রযোজকরা নতুন করে বিনিয়োগ কীভাবে করবেন?
