ইরান যুদ্ধ, ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং বিপুল ব্যয় নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ২০২৭ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক বিলের নিজস্ব সংস্করণ অল্প ভোটের ব্যবধানে পাস করেছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের (এনডিএএ) পক্ষে ২১৬ এবং বিপক্ষে ২১২ ভোট পড়ে। বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খাতে রেকর্ড ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি মুদ্রার এর পরিমাণ প্রায় ১৮৫ লাখ কোটি টাকা। ভোট প্রায় পুরোপুরি দলীয় বিভাজনের ভিত্তিতে হয়েছে। রিপাবলিকান দলের মাত্র সাতজন সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। আর ডেমোক্রেটদের মধ্যে মাত্র ছয়জন এর পক্ষে ভোট দেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ডেমোক্রেটরা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান সহযোগীরা যখন সামাজিক কর্মসূচির ব্যয় কমাচ্ছেন, তখন পেন্টাগনের জন্য এত বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেয়া অযৌক্তিক। তারা চলমান ও ব্যাপক সমালোচিত ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাও করেন। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৩৭৫০ কোটি ডলার। এ ছাড়া বিলে এমন একটি ধারা রাখা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। ডেমোক্রেটদের মতে, গাজায় ইসরাইলের হামলায় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে বামপন্থী মহলে, ইসরাইলকে দেয়া মার্কিন সমর্থন কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধারা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপাবলিকানরা বলছেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিচালনা, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং সেনাসদস্যদের সুবিধা বাড়াতে এই বিপুল বাজেট প্রয়োজন। বিলে সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি, নতুন ব্যারাক নির্মাণ এবং সামরিক পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এনডিএএ এমন একটি বিল হিসেবে পরিচিত, যা দুই দলের সমর্থনেই প্রতি বছর কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। গত ৬৫ বছর ধরে এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সামরিক বাজেটের বিশাল আকার, ইরান যুদ্ধ, ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা এবং ট্রান্সজেন্ডার সেনাসদস্যদের নীতি সংক্রান্ত তথাকথিত সংস্কৃতি যুদ্ধের মতো ইস্যুতে কংগ্রেসে তীব্র দলীয় বিভাজন তৈরি হয়েছে। এবার রিপাবলিকানরা ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল এনডিএএর সঙ্গে যুক্ত করে সিনেটে পাঠিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত এই বিলের লক্ষ্য ভোটদান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা। তবে সিনেটে এই ভোটার আইন পাস করানোর মতো পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায়, এর প্রভাব এনডিএএর ভবিষ্যতের ওপর কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত সপ্তাহে সিনেটে ডেমোক্রেটরা এনডিএএর সিনেট সংস্করণ আটকে দেন। তবে সিনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্ব জানিয়েছে, আগস্টের অবকাশে যাওয়ার আগে তারা আবারও বিলটি এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট আলাদাভাবে এনডিএএর নিজস্ব সংস্করণ পাস করবে। এরপর উভয় কক্ষের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির আলোচকরা সমঝোতার ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত সংস্করণ তৈরি করবেন। সেই সংস্করণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আবার ভোটের জন্য তোলা হবে। চূড়ান্ত বিলটি উভয় কক্ষে পাস হলে সেটি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে। তিনি চাইলে এতে স্বাক্ষর করে আইন হিসেবে কার্যকর করতে পারবেন অথবা ভেটো দিতে পারবেন।
