একের পর এক মারা যাচ্ছেন জেফরি এপস্টেইনের সহযোগীরা। এবার সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মডেলিং স্কাউট দানিয়েল সিয়াদকে তার নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্যারিসের উত্তর-পশ্চিম শহরতলি কলম্বসে গত সোমবার ৬৯ বছর বয়সী দানিয়েল সিয়াদকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে নঁতের প্রসিকিউটর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সোমবার সন্ধ্যায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত করা হবে বলে প্রসিকিউটর কার্যালয় জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে সিয়াদের নাম হাজার হাজার বার এসেছে।
তবে তিনি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা একটি তদন্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সিয়াদকে গ্রেফতার করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না। ফ্রান্সের পুলিশের কাছে ধর্ষণের অভিযোগসহ সিয়াদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। মৃত ব্যক্তির আইনজীবী মেঁয়া আরাব-তিগ্রিন এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, সিয়াদের বিরুদ্ধে কখনও মামলা হয়নি।
তিনি বলেন, তিনি মারা গেছেন এবং তিনি নির্দোষ ছিলেন। এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার আনিয়া (প্রকৃত নাম নয়) পূর্বে বিবিসিকে জানিয়েছিলেন যে সিয়াদই তাকে এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সিয়াদ মূলত একজন পেশাদার পাচারকারী ছিলেন। ফাঁস হওয়া নথিতে পাওয়া একটি ইমেইলে সিয়াদ এপস্টেইনকে লিখেন, এই ব্যবসায় আমি নিজেকে মাঝে মাঝে জেলের মতো মনে করি, কখনও দ্রুত মাছ পাই, কখনও পাই না। তবে সিএনএনের একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সিয়াদ দাবি করেন, নারী ও মেয়েরা এপস্টেইন দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে তা তিনি জানতেন না। সিয়াদ বলেছিলেন, আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম, ভেবেছিলাম এই লোকটা একজন পেশাদার ব্যক্তি। ফ্রান্সে সিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ জমা হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। তিনি একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কোনো অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। মে মাসে বিএফএমটিভিকে তিনি বলেন, আমি জীবনে কখনও কাউকে ধর্ষণ করিনি। প্রথম অভিযোগ আনা সাবেক মডেলের আইনজীবীরা সিয়াদের মৃত্যুতে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আমাদের অনুভূতি ও রাগ প্রকাশ করার মতো শব্দ নেই, ভুক্তভোগীদের বিচারিক বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা হলো।
আরেকজন সাবেক মডেল বিবিসিকে বলেছেন, সিয়াদের মৃত্যুর ফলে এপস্টেইন সম্পর্কিত তার কাছে থাকা যেকোনো তথ্য এখন হারিয়ে গেল। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় নষ্ট করা হয়েছে এবং এটি প্রমাণ মুছে যাওয়ার আরেকটি উপায়। আশা করি তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর জন্য আমাদের আরও সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে না, যদিও আমার মনে হয় ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। এর আগে ২০২২ সালে এপস্টেইনের আরেক সহযোগী ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলকে প্যারিসের কারাগারের কক্ষে ফাঁসি দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
৭৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণ ও যৌন শোষণের জন্য পাচারের সন্দেহে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক ছিলেন। তবে ব্রুনেলও তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। ব্রুনেল এপস্টেইনের অর্থায়নে এমসি২ মডেল ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এপস্টেইনের জন্য তরুণীদের পরিবহন ও আবাসনের ব্যবস্থা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন যৌন পাচারের জন্য ফেডারেল বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারের কক্ষে আত্মহত্যা করেন বলে রিপোর্ট প্রদান করে কারা কর্র্তৃপক্ষ।
