সিজেপির আন্দোলনকে জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা

সিজেপির আন্দোলনকে জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা

ফন্ট সাইজ:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে বেকায়দায় তার সরকার। প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনকে অনেকে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন। বাংলাদেশে যেভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয়েছে, অনেকটা তেমনি ঘটছে নয়াদিল্লিতে। ভিডিও সংবাদে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্দয় লাঠিচার্জ করছে পুলিশ। একজন শিক্ষার্থীকে যখন কয়েকজন পুলিশ মিলে প্রহার করছিল, তখন ওই শিক্ষার্থী অনড় দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি পুলিশকে আরও প্রহারের আহ্বান জানান। এ জন্যই এ ঘটনাকে অনেকে বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কমপক্ষে ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়।

তিনি পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। আর ভারতে এখনও সরকার বহাল তবিয়তে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র সহ কংগ্রেসের নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে, যদিও পরে ছেড়ে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে এরই মধ্যে সমর্থন দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান সহ বেশ কিছু অভিনেতা। অনলাইন এনডিটিভির খবরে বলা হয়, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে সংসদে আলোচনা। এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বুধবার রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তিনি ‘বেছে বেছে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন’। নাড্ডার দাবি, যেসব রাজ্যে কংগ্রেস বা তাদের মিত্ররা ক্ষমতায় রয়েছে, সেসব জায়গায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলো রাহুল গান্ধী উপেক্ষা করছেন।

আন্দোলনে যোগ দেয়া দিল্লির দরিয়াগঞ্জের ১৩ বছর বয়সী উমাসা বলেছে, আমি একটি ভালো ভবিষ্যৎ চাই। বুধবার রাতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকা প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে দিল্লির যন্তর মন্তরে অংশ নেয় সে। পিতা সেলিম ও বন্ধু রাহিসাকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনস্থলে যায় উমাসা। সরকারের কাছে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি দাবি করা হাজারো তরুণ-তরুণীর সঙ্গে সেও যোগ দেয়। প্রশ্নফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে উমাসা এনডিটিভিকে বলে, প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের কারণে যেসব পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, সে নিজে কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার হতে চায় না।

আন্দোলনে অংশ নেয়া আরেক তরুণী আশীষ উমাসার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার দাবি জানান। তিনি বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কী সমস্যা হচ্ছে তা বুঝতে আমাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসা। তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে শুধু নিজেদের জন্য নয়, সব শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্য দাঁড়িয়েছি। এমনকি যারা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন, তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্যও আমরা এখানে রয়েছি।

আন্দোলনকারী ফারাজ বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তার ভাষায়, আমি এখানে এসেছি, কারণ আমি বিশ্বাস করি কখনও কখনও আন্দোলন ও আদর্শ মানুষের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। ক্ষমতায় কারা আছে বা কে সরকার পরিচালনা করছে, সেটা বড় বিষয় নয়। অনেকেই বিভিন্ন কারণে এখানে এসেছে। কিন্তু আমি এমন একটি ভারতের আদর্শে বিশ্বাস করি, যার কথা আমি পাঠ্যবইয়ে পড়েছি, সিনেমায় দেখেছি। আমি সেই আদর্শের পক্ষেই এখানে দাঁড়িয়েছি। আন্দোলনস্থলে সহিংসতার বিষয়ে ফারাজ অভিযোগ করেন, কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

তিনি বলেন, উসকানিবিহীন ঘটনায় রাষ্ট্র এবং পুলিশের পক্ষ থেকে এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত সহিংসতা। আরেক তরুণ আন্দোলনকারী বলেন, সোমবারের সহিংসতা তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। তিনি বলেন, আমি যে শহরকে নিজের বাড়ি বলি, সেখানে নিজের চোখে দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনা এটি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বা সরকার যা-ই বলুক না কেন, কোনো মানুষই এমন আচরণের শিকার হওয়ার যোগ্য নয়। সোমবার যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন