ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ পরিচালনার জন্য বৃটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্নহ্যাম দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নীতি বহাল রাখলেন।
বৃটেন এমন সময়ে এই পদক্ষেপ নিলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার পর গত শুক্রবার কিয়ার স্টারমার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি এবং ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমতি বহাল থাকবে।
সূত্রগুলোর দাবি, এসব ঘাঁটি থেকে পরিচালিত মার্কিন অভিযানগুলোর লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা করা এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা।
গত সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ‘তথাকথিত প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ ক্ষেত্রে বৃটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে বার্নহ্যাম আগের সরকারের নীতিই অনুসরণ করবেন। ফলে চলমান মার্কিন অভিযানের কিছু অংশে বৃটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১১তম রাতের মতো ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এনিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা রাতভর ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় কিয়ার স্টারমার একদিকে বামপন্থী রাজনৈতিক মহলের চাপের মুখে পড়েছিলেন, যারা বৃটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিল। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃটেনের আরও সক্রিয় সামরিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন।
এছাড়া ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেয়ায় বৃটিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের হামলার সঙ্গে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারে বৃটেনের বামঘেঁষা গ্রিন পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস। দল দুটির অভিযোগ, মার্কিন অভিযানে বৃটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলে বৃটেন সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহ্যামের প্রতি ডনাল্ড ট্রাম্পের তুলনামূলক ইতিবাচক মনোভাবের পেছনেও এই সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সোমবার বার্নহ্যাম টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এনিয়ে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনায় বার্নহ্যাম হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃটেনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই ফোনালাপকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি লিখেন, আমরা নর্থ সি তেল, বাণিজ্য, সামরিক জোট, হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণ এবং আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ফোনালাপটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং খুব ভালো হয়েছে।

MD HUSAIN AHMED
১ ঘন্টা আগেলও ঠেলা।