সিএনজি স্টেশন মালিকদের ধর্মঘটের আলটিমেটাম

কমিশন বৃদ্ধিসহ ৪ দাবি

সিএনজি স্টেশন মালিকদের ধর্মঘটের আলটিমেটাম

ফন্ট সাইজ:

সিএনজি বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ৩০শে জুলাই দেশব্যাপী প্রতীকী ধর্মঘট এবং পরে ২৩শে আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, মহাসচিব ফারহান নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে সিএনজির প্রতি ঘনমিটার বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকাই রয়েছে। গত প্রায় ১১ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম একাধিকবার বেড়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশন, ঋণের সুদ, ডলারের বিনিময় হার এবং স্টেশন পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কমিশন অপরিবর্তিত থাকায় অধিকাংশ স্টেশন লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে।

সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্য বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০শে জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। এ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রাখা হবে। তবে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ২৩শে আগস্ট থেকে দেশব্যাপী সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে একাধিকবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বিইআরসি সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সায় উন্নীত করার পক্ষে দুটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরা হয়। এক. বিদ্যুতের সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্টেশন পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই. মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমিশনের বর্তমান কাঠামোকে অকার্যকর করে তুলেছে। সংগঠনটি আরও জানায়, কমিশন বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ২০১৫ সালে বিইআরসি মাত্র ১ টাকা মার্জিন বাড়ায়, বাকি সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন