ইন্দোনেশিয়ায় কিনে শিশুদের বিক্রি করা হতো সিঙ্গাপুরে

পাচারকারীদের কারাদণ্ড

ইন্দোনেশিয়ায় কিনে শিশুদের বিক্রি করা হতো সিঙ্গাপুরে

ফন্ট সাইজ:

ইন্দোনেশিয়ার একটি মানবপাচারকারী দল দেশটির দরিদ্র পিতা-মাতার কাছ থেকে শিশুদের কিনে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার ধনীদের নিকট বিক্রি করতো। দেশটিতে ৩৪টি শিশু পাচারের অভিযোগে পাচার চক্রের ১৯ সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। আসামিদের মধ্যে এই চক্রের মূল হোতা ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের তিন থেকে ছয় বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

তদন্তকারীদের তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই পাচারকারী চক্রটি পশ্চিম জাভা থেকে বেআইনিভাবে শিশু কিনে দত্তকের নামে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বিক্রি করত। পাচার করা ৩৪টি শিশুর মধ্যে অন্তত ১২টি শিশু ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। চঞ্চল সৃষ্টিকারী এই ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ায় শিশু পাচারের দীর্ঘদিনের গুরুতর সমস্যাটিকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে। মূলত দরিদ্র পিতা-মাতার সন্তানদের বিক্রি করে দেয়ার প্রবণতার কারণে এমন পাচারের ঘটনা ঘটে থাকে। আদালতের রায়ে মূল হোতা লি সিউ লুয়ানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি লোকবল নিয়োগ এবং পুরো পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। অন্যদিকে শিশুদের সংগ্রহকারী প্রধান দালাল অস্ত্রী ফিতরিনিকাকে ছয় বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপরাধ চক্রের একমাত্র পুরুষ সদস্য জাকাহ হামদানি হুতাবারাতকে ছয় বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি দালাল হিসেবে কাজ করতেন।

এছাড়া জাল জন্মসনদ ও পারিবারিক কার্ড তৈরির অভিযোগে লাই সিউ হাসে ছয় বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। চক্রে শিশুদের পরিচর্যাকারী ও অন্যান্য সহায়তাকারী হিসেবে যুক্ত থাকা বাকি আসামিদের তিন বছর চার মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই চক্রটি পশ্চিম জাভা থেকে শিশুদের সংগ্রহ করে দেপোক শহরে নিয়ে যেত। সেখান থেকে তাদের পোন্তিয়ানাকের একটি বাড়িতে রেখে ভাড়াটে পরিচারিকাদের মাধ্যমে দেখভাল করা হতো। পরবর্তীতে জাল কাগজপত্র তৈরি করে জাকার্তা হয়ে শিশুদের সিঙ্গাপুরে পাচার করা হতো। প্রতিটি শিশুর বিনিময়ে সিঙ্গাপুর থেকে অন্তত ১৮ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে আদালতকে জানিয়েছেন দণ্ডপ্রাপ্ত মূল হোতা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন