জুলাই-আগস্ট হত্যার বিচার: মামলা বাড়ছে, রায় কম

সহযোগীদের খবর

জুলাই-আগস্ট হত্যার বিচার: মামলা বাড়ছে, রায় কম

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জুলাই-আগস্ট হত্যার বিচার: মামলা বাড়ছে, রায় কম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রায় দুই বছরে ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে ২০টি মামলা। ৩৮ অভিযোগের তদন্ত চলার পাশাপাশি তদন্তের জন্য বাছাই করা হয়েছে আরও অর্ধশতাধিক অভিযোগ।

এগুলোর বাইরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে জমা আছে আরও কয়েক শ অভিযোগ। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস লাগছে। মামলা বাড়লে নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষাও দীর্ঘ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে এসব মামলার দ্রুত বিচার চান জুলাই শহীদদের পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা ও ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মামলা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটররাও তা মনে করেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে বলেছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ ওই সময়ের বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। মামলার সংখ্যা ও বিচার দ্রুত করার চাপ বাড়লে গত বছরের ৮ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে গুম, খুন, নির্যাতনের কিছু ঘটনার মামলার বিচারও চলছে।

দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত তিনটি করে ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় সাজা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬২ জনের। প্রথম রায় হয় গত বছরের ১৭ নভেম্বর। জুলাই-আগস্টে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই ট্রাইব্যুনাল রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একই ট্রাইব্যুনাল গত ২৮ জুন হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান, হাবিবুর রহমানসহ সাজাপ্রাপ্ত অনেক আসামি পলাতক রয়েছেন।

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানো মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল-২ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন। রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পান পুলিশের সাবেক এএসআই আবজালুর রহমান। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এই ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল পুলিশের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এই ট্রাইব্যুনাল কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার রায়ে ৩০ জুন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

এসব মামলার বাইরে আদালত অবমাননার মামলায় শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের ও গাইবান্ধার শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার দায়ে যুবলীগ নেতা এম এইচ পাটোয়ারীর দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

ট্রাইব্যুনাল-২ কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে ট্রাইব্যুনাল-২-এ।

প্রসিকিউশনের সূত্র জানায়, বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৫টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এগুলোসহ তদন্তপর্যায়ে থাকা মোট ৫৮ মামলায় আসামি ৩৯৪ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন ১৪৭ জন, বাকিরা পলাতক। অবশ্য বেশ কয়েকজন একাধিক মামলার আসামি। আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সাবেক এমপি, স্থানীয় নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।

এ ছাড়া মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেদন জমা পড়েছে প্রসিকিউশনে। আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে আরও নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মনে করছেন, আওয়ামী লীগ আমলের আরও অনেক ঘটনার বিচার ট্রাইব্যুনালে হতে পারে। এতে মামলার সংখ্যা আরও বাড়বে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৫৯০টি অভিযোগ গ্রহণের পর যাচাই-বাছাই করে ১০৯টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে তদন্ত শেষ হওয়া মামলাগুলোর বিচার চলছে। সবকিছু মিলিয়ে একটি মামলায় বিচার শেষ করা পর্যন্ত তিন-চার বা পাঁচ মাস লেগে যায়। এখন যে পরিমাণ মামলা আছে এবং ভবিষ্যতে আরও যে পরিমাণ মামলা আসবে, তাতে দুই ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ হয়ে যাবে। কারণ, প্রতিদিন চার-পাঁচটি মামলার বিচার হচ্ছে। একটিতে সাক্ষ্য নিলে অন্যগুলোতে সম্ভব হয় না। তাই সংগত কারণে দেরি হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যাও বাড়াতে হবে। তাহলে বিচার আরেকটু দ্রুত হবে। তিনি মনে করেন, সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবে।

ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই মত দেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে প্রাণ উৎসর্গকারীদের পরিবার ও আহতরা দ্রুত বিচার দেখতে চান। আমরাও সে জন্য চেষ্টা করেছিলাম। যেহেতু মামলার সংখ্যা অনেক বেড়েছে, তাই মামলার অনুপাতে ট্রাইব্যুনাল বাড়ানো উচিত। কেননা, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর আপিল নিষ্পত্তি হতেও অনেক সময় লাগবে।’

হেফাজতের সমাবেশ কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন

মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে প্রসিকিউশনে। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে শেখ হাসিনা, সাবেক দুই আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হকসহ ৪১ জনের নাম রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিগত সময়ে নানা অপকর্মে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে তার বিচারও ট্রাইব্যুনালে হবে বলে জানান তিনি।

প্রথম আলো

‘সরকার পরিচালনায় শরিকদের পরামর্শ নেবে বিএনপি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সরকার পরিচালনা, শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আন্দোলনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকার পরিচালনায় শরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটকে আরও সুসংহত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারে মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় কয়েকটি দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাইফুল হক, রফিকুল ইসলাম বাবলু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) বৈঠকে অংশ নেয়নি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দলটি কৌশলগত কারণে অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েই যাইনি। তবে কেন যাইনি, সে বিষয়ে আমরা বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে একটি চিঠি দিয়েছি।’

জানা গেছে, চিঠিতে জেএসডি বলেছে, জুলাই সনদ, গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগে বিএনপির সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ দলের নীতিগত অবস্থান ও জনগণের প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই জেএসডি এই মুহূর্তে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না। তবে রাষ্ট্র বা সরকারের উদ্যোগে সব রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হলে জেএসডি তাতে গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ করবে।

নির্বাচনের পর শরিকদের অবস্থান

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরিক দলগুলোর জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি দলের জন্য ছিল আটটি আসন। নির্বাচনে জয়ী হন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক। পরে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আন্দালিভ রহমান পার্থকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়।

এ ছাড়া কয়েকটি শরিক দলের নেতা নিজ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁনকে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর এ বৈঠকে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও জমিয়ত যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত ছিল না। পরে বিএনপির সঙ্গে তাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়। কিন্তু দলটি বৈঠকে অংশ নেয়নি। গত জাতীয় নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে সর্বোচ্চ চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। তবে দলটির সভাপতি-মহাসচিবসহ কোনো প্রার্থীই জয়ী হননি। এই চার আসনের একটিতে খেলাফত মজলিস, একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী, একটিতে জামায়াতে ইসলামী ও একটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জয়ী হন।

নির্বাচনের পর থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে কওমি মাদ্রাসা ও জামায়াত ধারার আলেমদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিতর্ক চলছে। তাঁদের মধ্যে জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক জামায়াতের আদর্শিক ও রাজনৈতিক ধারার সমালোচনা করছেন।

জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জানিয়েই জমিয়ত প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ নেওয়া থেকে কৌশলগত কারণে বিরত থেকেছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘অরক্ষিত আকাশ, নীরব কর্তৃপক্ষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৫ জনের প্রাণহানির পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হযরত শাহজালাল ও তেজগাঁও বিমানবন্দরের আশপাশে গত এক দশকে উচ্চতাসীমা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ভেঙে, এমনকি জাল ছাড়পত্র ব্যবহার করেও নির্মিত হয়েছে এসব ভবন। এগুলো অপসারণে বছরখানেক আগে রাজউককে চিঠি দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে যে কোনো সময় আবারও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, গত বছরের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারান ৩৫ জন এবং গুরুতর আহত হন অন্তত ৬৫ জন। সেসময় দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে-কেবল যান্ত্রিক ত্রুটিই নয়; বরং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) উপেক্ষা করে স্কুল ভবন নির্মাণের কারণেও হতাহতের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিনের নীতিমালা লঙ্ঘন, দুর্বল এভিয়েশন আইন প্রয়োগ ও রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চরম দায়িত্বহীনতার ধারাবাহিক পরিণতি।

বেবিচক সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় গত এক দশকে নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্তত ৫২৫টি উঁচু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় এক বছর আগে ভবনগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) চিঠি দেয় বেবিচক। কিন্তু আজও এ বিষয়ে রাজউকের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় নির্ধারিত উচ্চতার বেশি কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিধিনিষেধ কার্যকরভাবে মানা হয়নি। ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বিমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। শুধু অবৈধ ভবন শনাক্ত করলেই হবে না, দ্রুত আইন অনুযায়ী সেগুলো অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো অননুমোদিত উচ্চ ভবন নির্মাণ না হয়, সেজন্য রাজউক, বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ভবন অপসারণ বা ভেঙে ফেলার আইনগত এখতিয়ার বেবিচকের নেই। আমরা বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনুমোদিত উচ্চতার ভবনগুলো চিহ্নিত করে একাধিকবার রাজউককে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছি। এখন এসব ভবনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব রাজউকের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উচ্চতাসীমা অতিক্রম করা ভবনগুলোর বিষয়ে বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এসব ভবনের বিষয়ে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এ ভবনগুলোকে রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। যুগান্তরের হাতে আসা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে রাজউককে গত বছর পাঠানো বেবিচকের ৬০ পৃষ্ঠার নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কখনো রাজউকের নজর এড়িয়ে আবার বেবিচকের জাল বা ভুয়া ছাড়পত্র ব্যবহার করে বিমানবন্দরের রানওয়ের আশপাশে এসব অতিরিক্ত উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, রানওয়ের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস (ওএলএস) বজায় রাখতে হয়। এ এলাকায় দূরত্বভেদে ভবনের উচ্চতা শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ ফুট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রভাব খাটিয়ে তিনতলার অনুমোদন নিয়ে ছয়-সাততলা ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কালের কণ্ঠ

‘শিল্পে বড় ধাক্কা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ২.২২%’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির গতি আরো মন্থর হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) জিডিপি হিসাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২.২২ শতাংশে।

আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৫৩ শতাংশ। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিল্প খাতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে মাইনাস ০.২৮ শতাংশে নেমে গেছে।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত বিবিএসের ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক পতন ঘটেছে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সংশোধিত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৯৬ শতাংশ।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা কমে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়ায়। আর তৃতীয় প্রান্তিকে তা আরো কমে ২.২২ শতাংশে নেমে আসে। ফলে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৩৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে চলতি মূল্যে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ লাখ ১৯ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা।

অর্থনীতির আকার বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে শিল্প খাতে। প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮২ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.২৭ শতাংশ। কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকে তা নেমে যায় ঋণাাত্মক ০.২৮ শতাংশে। এক বছর আগে একই সময়ে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানিসংকট, দুর্বল চাহিদা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা শিল্প উৎপাদনে বড় চাপ তৈরি করেছে।

কৃষি ও সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১.৭৪ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪.৬১ শতাংশ। সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৭.৩২ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫২ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস তুলনামূলক কম। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিদায়ি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চ ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে চাপে রেখেছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ডেঙ্গুর ধরন পাল্টেছে সংক্রমণ-মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ধরন (সেরোটাইপ) ছিল ডেনভ-২। তবে চলতি বছর সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন আধিপত্য দেখা যাচ্ছে ডেনভ-৩ সেরোটাইপের। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, এ বছর বিশ্লেষণ করা নমুনার ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডেনভ-৩ ও ৮ দশমিক ৫ শতাংশে ডেনভ-২ শনাক্ত হয়েছে। অন্য কোনো সেরোটাইপ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সারাদেশে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ১৬ জুলাই এক দিনে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সেরোটাইপে এমন পরিবর্তন বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ, আগে ডেনভ-২-এ আক্রান্ত হয়ে যাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল, তারা এখন ডেনভ-৩-এ নতুন করে আক্রান্ত হতে পারেন। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। আইইডিসিআর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৭১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে এ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, চলতি বছরে ডেনভ-৩-এর স্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে।

রোগতত্ত্ববিদরা জানান, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। এগুলো হলো ডেনভ-১, ডেনভ-২, ডেনভ-৩ ও ডেনভ-৪। একজন ব্যক্তি একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু অন্য সেরোটাইপে আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। দ্বিতীয়বার সংক্রমণে গুরুতর ডেঙ্গুর আশঙ্কা বেশি থাকে।

ইত্তেফাক

‘মানসিক ট্রমায় অনেক শিক্ষার্থী’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন অভিভাবক ও বিমানের একজন পাইলট। আহত ১৭৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ৬৩ জন। আহতরা দীর্ঘ চিকিত্সা শেষে ক্লাসে ফিরলেও অধিকাংশই এখনো স্বাভাবিকে ফিরে আসতে পারেনি। ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থী যারা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, আজও তাদের বুকের ভিতর শূন্যতা আর হাহাকার। হূদয়ে রক্তক্ষরণ থামলেও দগদগে বিষাদের সেই ক্ষণ, আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ, বন্ধুদের হারানোর শোকসহ চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। অভিভাবকরা বলেন, আহত শিক্ষার্থীরা সবকিছুতেই এখন বিরক্ত দেখায়, হঠাত্ রেগে যায়। আকাশে বিমানের আওয়াজ শুনলে এখনো অনেকে আতঙ্কে শিউরে ওঠে ও কান চেপে ধরে। বেশির ভাগই ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না, আবার কেউ মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিশুদের মনে গভীর মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, যা তারা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেবল শারীরিক চিকিত্সাই যথেষ্ট নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশবে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য এখনো কাঁদেন স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা। আর যারা সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন, তাদের জীবন চলছে এক অজানা আতঙ্কে। এতদিনেও বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য এখনো অনেকের কাছে ধূসর স্মৃতি। যত দিন যাচ্ছে অস্বাভাবিক আচরণ বাড়ছে দুর্ঘটনায় আহত ৬ষ্ঠ শ্রেণির (ইংরেজি ভার্শন) শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের। সে প্রায়ই বলছে, ‘মরে গেলে ভালো হতো’। গতকাল জাইয়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, তার মেয়ের এখনো ভয় কাটেনি। হুটহাট রেগে যায়। কোন কথা বললেই বিরক্ত বোধ করে। প্রতিদিন ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠে। দিনদিন এই অস্বাভাবিক আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনে ও রাতে প্রায়ই বলে, আমি কেন ঐ দিন মারা গেলাম না? মরে গেলে ভালো হতো, আমার কিছু ভালো লাগে না। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা পরিপাটি ছিল। হাতে মেহেদি দিত, ব্রেসলেট পরত। ওর হাত পুড়ে গেছে। সে বলে, হাত জম্বির মতো হয়ে গেছে। ওর প্রশ্নের উত্তর আমি কী দেব? এই বাচ্চাগুলোকে সমাজ কোন চোখে দেখবে? তিনি আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিত্সার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি জানান।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বিনা মূল্যে চিকিত্সাসেবা পেলেও হতাহতের পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা পায়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ করে টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা খুবই সীমিত সহায়তা হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিভাবকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ প্রসঙ্গে সানজিদা বেলায়েত বলেন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সাক্ষাত্ পাইনি। গত ২১ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিল। সেদিন তারেক রহমান বলেছিলেন, তিনি সরকার গঠন করতে পারলে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। সানজিদা বেলায়েত বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় কোন পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে আহত শিশুরা দগ্ধজনিত জটিলতা, প্লাস্টিক সার্জারি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমার কারণে মানবেতন জীবন যাপন করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য লিখিত আবেদনে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে শহিদ ও আহতদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—শহিদ পরিবারের সুরক্ষায় ও আহতদের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহনে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত হাইকোর্টের রিটের বাস্তবায়ন। আহতদের জন্য আজীবন বিনা মূল্যে চিকিত্সাসেবা ও সিএমএইচ থেকে বিশেষ মেডিক্যাল কার্ডের ব্যবস্থা করা। নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি মর্যাদা ও সনদ প্রদান করা। ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা এবং শহিদদের স্মরণে উত্তরায় একটি মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।

নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা: দুর্ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরে জান্নাত ইউসার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায়। গত বছরের ২২ জুলাই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ঐ বছরের ১১ আগস্ট হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। এখন নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে ইউসা বলে, একসময় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে, এখন বিমান উড়ে গেলেই ভয় পেয়ে দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে সে, আর পাইলট হওয়ার ইচ্ছা নেই তার।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘নির্দলীয় ভোটের সমীকরণে ইসির স্থানীয় নির্বাচন প্রস্তুতি’। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন, আচরণবিধি ও বিভিন্ন ধারা সংস্কারের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে কমিশন। একই সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে জোর প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচনের সূচনা করতে চায় কমিশন, যা এখন সরকারের সবুজসঙ্কেতের অপেক্ষায় রয়েছে।

দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত থাকায় স্থানীয় রাজনীতির চেনা সমীকরণ অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন কেবল এক সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতীয় নির্বাচনের পর মাঠপর্যায়ে দলগুলোর শক্তি-পরীক্ষার প্রধান মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসি বেশ কিছু নীতিমালা ও বিধিমালার খসড়া তৈরি করে মতামত গ্রহণ ও গেজেটের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো নির্বাচনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না; পুরো নির্বাচন হবে সনাতন কাগজের ব্যালটে। এ ছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিধান বাদ দিয়ে এবার প্রার্থীদের সরাসরি (সশরীরে) মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। অন্য দিকে বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নির্ভর করছে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর।

স্থানীয় সরকার কাঠামোর চিত্র ও মেয়াদোত্তীর্ণের হালচাল : সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বর্তমানে কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে তফসিল ঘোষণার আগে আইনি সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও আবহাওয়াজনিত ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কয়েক ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

এখন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ৪,৫৯৯টি; ২০২১ সালের জুন থেকে শুরু হওয়া বহু ইউপির আইনি মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রায় ৩,৬০০টি ইউপি আগস্ট-অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের যোগ্য হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ ৪৯৫টি; পর্যায়ক্রমে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাধীন। পৌরসভা ৩৩০টি; প্রথম ধাপের বেশ কিছু পৌরসভা মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদের শেষপ্রান্তে রয়েছে। আর সিটি করপোরেশন ১৩টি। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ মোট ১৩টি সিটি করপোরেশন ১০-১২ মাসের কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং এলজিইডির হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। ফলে এই নির্বাচন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

অক্টোবর টার্গেটে ইসির কারিগরি ও আইনি সংস্কার : নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে, যা আগস্টের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে প্রাথমিক সমন্বয় শুরু হয়েছে।

বণিক বার্তা

‘নতুন খাত ও দেশের বাইরের গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে গড়া পুঁজি ও সম্পদ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের রফতানি খাতে পরিণত করা উদ্যোক্তারা কারখানার উৎপাদন ও সম্প্রসারণেই মনোযোগী ছিলেন।

তারা লভ্যাংশ পুনরায় বিনিয়োগ করেছেন উৎপাদন বাড়াতে, কারখানার সক্ষমতা বাড়িয়েছেন। প্রতি ইউনিটে সেন্টের ভগ্নাংশ মেপে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন সেই যুগের অবসান ঘটছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি পোশাক শিল্পে গড়ে ওঠা পুঁজি ও সম্পদ এখন ক্রমেই দুবাই, সিঙ্গাপুর ও লন্ডনের আবাসন, আর্থিক সেবা, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পোদ্যোক্তারা নীরবে এমন বহুমুখী বিনিয়োগ পোর্টফোলিও গড়ে তুলছেন, যার ধরন গাজীপুরের কারখানাকেন্দ্রিক ব্যবসার চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের পারিবারিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।

গড়ে ওঠা শিল্পের ব্যাপ্তি

বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ শিল্পে কর্মরত ৪০ লাখের বেশি শ্রমিকের অধিকাংশই নারী। আনাম গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ ও বেক্সিমকোর মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা পরিবারগুলো কঠোর ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার এবং কয়েক দশকের ধারাবাহিক পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে।

বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান বস্ত্র, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আবাসন খাত মিলিয়ে একটি কনগ্লোমারেট গড়ে তুলেছেন। তার ব্যবসায়িক যাত্রা দেখায়, শিল্পটির উচ্চাভিলাষী উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিষয় বুঝেছেন—উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপকে একই ছাতার নিচে আনা এবং ব্যবসাকে একাধিক খাতে ছড়িয়ে দেয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার কৌশল। তবে ২০২৫-২৬ সালে এসে বদলে গেছে এ বহুমুখীকরণের গতি ও ভৌগোলিক পরিধি।

আবাসন খাত ও উপসাগরমুখী মোড়

সবচেয়ে দৃশ্যমান পুঁজি স্থানান্তর ঘটছে আবাসন খাতে, বিশেষ করে জিসিসি-ভুক্ত দেশগুলোয়। নিজেদের সম্পদের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে চাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর কাছে দুবাই এখনো দেশের বাইরের সবচেয়ে পছন্দের কেন্দ্র। বাংলাদেশের পুঁজিও এর ব্যতিক্রম নয়।

বড় কয়েকটি বস্ত্র শিল্পগোষ্ঠীর দ্বিতীয় প্রজন্মের উত্তরসূরিরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে হোল্ডিং কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। মূলধনি মুনাফায় কর না থাকা, সুসংগঠিত মুক্তাঞ্চল ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিনিয়োগ সুযোগের কাছাকাছি অবস্থান তাদের সেখানে আকৃষ্ট করছে।

এক্ষেত্রে সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফোর্বস মিডলইস্টের ২০২৬ সালের সবচেয়ে ধনী আরবদের তালিকায় ৩৭ জন বিলিয়নেয়ার রয়েছেন, যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে তা ৮ শতাংশ বেড়েছে। এ উত্থান বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

এএইচএস প্রপার্টিজের মাধ্যমে মাত্র ২৬ বছর বয়সে আব্বাস সাজওয়ানির বিলিয়নেয়ার হয়ে ওঠা উপসাগরীয় অঞ্চলের আবাসন বাজার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দেয়—এ বাজার আগেভাগে বিনিয়োগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি, বহু প্রজন্মের পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করে। বাজারটির ওপর নজর রাখা বাংলাদেশের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোও সেই শিক্ষাই নিচ্ছে।

কৌশলগত সম্পদ খাত হিসেবে কৃষি ব্যবসা

আবাসনের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ব্যবসাও বাংলাদেশের শিল্পগোষ্ঠীগুলোর নতুন বিনিয়োগ গন্তব্য হয়ে উঠছে। এর কারণ স্পষ্ট—এসব পরিবার সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনা এবং বড় পরিসরে পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় আগে থেকেই দক্ষ।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের উইলমার ইন্টারন্যাশনাল ও নাইজেরিয়ার ট্রপিক্যাল জেনারেল ইনভেস্টমেন্টস গ্রুপ সমান অংশীদারত্বে একটি যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বাজারকে লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা এ উদ্যোগ এশিয়ার বিভিন্ন পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের নজর কেড়েছে। তাদের ধারণা, একাধিক মহাদেশে বিস্তৃত এ কৃষিভিত্তিক ব্যবসার মডেল নিজেদের কাছাকাছি বাজারেও অনুসরণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, অ্যাকুয়াকালচার বা মৎস্য চাষ ও হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্য রফতানিতে। পোশাক শিল্পে গড়ে ওঠা কয়েকটি পারিবারিক শিল্পগোষ্ঠী এরই মধ্যে এসব খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পে-স্কেল বাস্তবায়নের চাপে হিমশিম সরকার’। খবরে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয় জাতীয় বেতন কমিশন। ওই অর্থবছরে (২০২৫-২৬) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৮৫ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। আর নতুন পে-স্কেল চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়ন করতে হলে ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বছর ঘুরতেই এ খাতে পেনশনের পাওনাসহ রাষ্ট্রের খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায়। ব্যয় বৃদ্ধির এই হার ১৫৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ৬ লাখ কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ আগের হিসাবের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে ৬ লাখ কোটি টাকার সঙ্গে আরও প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যোগ করতে হবে। সেই সঙ্গে বাজেটের মোট অঙ্ক অতিক্রম করবে ১০ লাখ কোটির সীমা।

দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে ক্ষত-বিক্ষত অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করে একটি ঘাটতি বাজেট নিয়ে নির্বাচিত বিএনপি সরকার প্রথম অর্থবছরে পদার্পণ করেছে। তার ওপরে ১৫৬ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধির পে-স্কেল বাস্তবায়নের তাগিদ ও নীতিগত অবস্থান কঠিন চাপে ফেলেছে সরকারকে। সার্বিক বিষয়গুলোর হিসাব-নিকাশের জটিল সমীকরণ এখন সচিব কমিটির হাতে। এজন্যই সহসা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় উঠছে না। সচিব কমিটি থেকে মন্ত্রিসভার পথের দূরত্ব এখনো অনেক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পে-স্কেল বাস্তবায়নে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ থাকলেও সচিব কমিটি বিবেচনায় নিচ্ছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, নিত্যপণের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব, নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা, দেশের বিশাল বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সামর্থ্য এবং কর্মজীবীদের বিদ্যমান বেতন-ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। সাধারণত সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করলে পরদিনই নিত্যপণ্যের বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। বাড়তি দামের চাপে নাভিঃশ্বাস ওঠে সাধারণ মানুষের। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাও কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর চাপে পড়েন। এর সঙ্গে এবার তেল-গ্যাসের সংকট ও উচ্চমূল্য এবং বৈরী বৈশ্বিক ব্যবসা পরিস্থিতিও বেসরকারি খাতকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। কর্মীদের বেতন দিতে পারছেন না শত শত উদ্যোক্তা। অসংখ্য বেসরকারি উদ্যোক্তা ব্যাংকের দায়দেনাও পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সচিব কমিটির বৈঠক করেছি। সেখানে সার্বিক আলোচনায় অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা দুটি বিষয়ই সমন্বয় করার কথা এসেছে। সচিব কমিটির বেশিরভাগ সদস্য এ ব্যাপারে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এজন্য আরও সময় লাগবে। তবে আমরা একটি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছি।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন