বাহরাইন, কুয়েতে ইরানের হামলা, হরমুজে ২ জাহাজে আগুন

বাহরাইন, কুয়েতে ইরানের হামলা, হরমুজে ২ জাহাজে আগুন

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টানা দশম রাতের মতো দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার ও কোনারাক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার দাবি করেছে ইরান। তারা জানিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলা ও অবরোধে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় অঞ্চল।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এক সপ্তাহে কমপক্ষে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। তাদের এ পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইআরজিসি দ্বিতীয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা কুয়েতে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা চালিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে থাকা একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, এফপিএস-১১৭ রাডার, একটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য, ভবিষ্যতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগে ওই অঞ্চলের রাডার নজরদারি দুর্বল করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।

বৃটেনের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাহাজটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইউকেএমটিওকে জানিয়েছেন যে, নাবিকরা জাহাজটি ত্যাগ করে বর্তমানে একটি লাইফবোটে অবস্থান করছেন। এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালির অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের পর ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে।

ওদিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সর্বশেষ বিবৃতি আসে এমন সময়, যখন হরমুজ প্রণালিতে ইরান নির্ধারিত পথের পরিবর্তে অন্য একটি রুট ব্যবহার করার সময় দুটি জাহাজ বিস্ফোরণের মুখে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। তেহরানের দাবি, বিকল্প পথগুলো এখনো মাইন ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণে বিপজ্জনক। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। তেহরান বলছে, এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতেই রয়েছে এবং যেকোনো জাহাজকে পারাপারের আগে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। ইরানি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, প্রণালিটি যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছেন, জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত পথই অনুসরণ করতে হবে।

সাম্প্রতিক কয়েক রাতেও একাধিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তেহরানের ভাষ্য, জলপথে চলাচল ও বৃহত্তর উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইরান আরও বলছে, বিষয়টি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের বিস্তৃত সংঘাতের সঙ্গেও জড়িত।

মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আবদানান শহরে মঙ্গলবার সকালে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আবদানানের গভর্নর বেহজাদ নূরমোহাম্মাদির বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, দিনার কুহ এলাকায় একটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন