পারেদেসকে ঘিরে থামছে না ঝড়, ‘সামনে বিপদ’

পারেদেসকে ঘিরে থামছে না ঝড়, ‘সামনে বিপদ’

ফন্ট সাইজ:

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের বাঁশি বাজার পর এবার মাঠে দেখা যায়নি ক্রীড়াসুলভ আচরণ। বরং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ মুহূর্ত রূপ নেয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে। এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

ম্যাচ শেষের পর তার আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থাগুলোর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে ফিফা। বিষয়টি এখন সংস্থাটির শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তাধীন।
ম্যাচ শেষে কী ঘটেছিল?

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রাটার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন ১-০ ব্যবধানে জয়ের পর উদ্যাপন শুরু করলে পারেদেস কয়েকজন স্প্যানিশ ফুটবলারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি এরিক গার্সিয়ার ওপর আক্রমণ করেন এবং পরে পাবলো গাভিকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে নাহুয়েল মোলিনা স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে আঘাত করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

পারেদেসের জন্য অপেক্ষা করছে বড় শাস্তি?
ম্যাচ শেষে সরাসরি লাল কার্ড দেখায় পারেদেসের পরবর্তী অফিসিয়াল ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ফিফা এখানেই থেমে থাকতে চায় না বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইএসপিএন ও টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রেফারির প্রতিবেদন এবং উচ্চমানের ভিডিও ফুটেজ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে পারেদেস পরিকল্পিতভাবে সহিংস আচরণ করেছেন, তাহলে তার নিষেধাজ্ঞা কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
তবে এখন পর্যন্ত ফিফা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ঘোষণা করেনি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শাস্তির বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্য ও বিতর্ক
৩২ বছর বয়সী লিয়ান্দ্রো পারেদেস আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অন্যতম অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। বর্তমানে তিনি দেশটির ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলছেন। নিজের ক্যারিয়ারে যেমন নিখুঁত পাসিং ও খেলার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি মাঠে আগ্রাসী মেজাজের কারণেও বহুবার আলোচনায় এসেছেন।

২০১০ সালে বোকা জুনিয়র্সের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা পারেদেসকে শুরুতে কিংবদন্তি হুয়ান রোমান রিকেলমের উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। পরে ইউরোপে খেলার সময় তিনি ধীরে ধীরে গভীর মিডফিল্ডে প্লেমেকারের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ইউরোপে তিনি রোমা, জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ, জুভেন্টাস ও প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) মতো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। পিএসজিতে তিনি লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টাইব্রেকারে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

বোকায় ফেরা
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউরোপ অধ্যায়ের ইতি টেনে শৈশবের ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে ফিরে আসেন পারেদেস। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি করে লা বোম্বোনেরায় তার প্রত্যাবর্তন উদ্যাপন করেন হাজারো সমর্থক।

দক্ষিণ আমেরিকায় ফেরার পরও তিনি নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ধরে রেখে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে জায়গা ধরে রাখেন।
এখন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং জাতীয় দলের সবাই অপেক্ষা করছে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। শৃঙ্খলাভঙ্গের এই তদন্তের রায়ই নির্ধারণ করবে জাতীয় দলের হয়ে পারেদেসের নিকট ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন