যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জোট শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের পূর্বে জাতীয় সরকার নিয়ে বিএনপির দেয়া প্রতিশ্রুতিসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা করেন নেতারা।বৈঠকে ৩১ দফা কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জোট নেতাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলামী দলসহ ৪১টি দলের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের একটা রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে সরিয়ে, হাসিনা সরকারকে সরিয়ে, আমরা একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পেয়েছি। আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদের নেতৃবৃন্দকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, কথা বলার জন্য। তিনি বলেন, এটা আমাদের এই চলমান যে রাজনৈতিক আন্দোলন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এবং একই সঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, সেই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে, আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত একসাথে আন্দোলন করেছি, এই সব দলগুলোকে নিয়ে। আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে এরকম আছে।
ফখরুল বলেন, আজকে সেই জন্যই একটা আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সকলের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রত্যেকের সাথে তিনি কথা বলেছেন। আমাদের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তারা কথা বলেছেন, তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর যে শুরু সেই শুরুটাকে তারা অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তিনি তাদের যে অবদান, সেটা দেশ চিরকাল মনে রাখবে সে কথা বলেছেন।
ফখরুল বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, এই ৫ মাসের মধ্যে সম্ভব হয়নি হয়তোবা বিভিন্ন কাজের তাড়াহুড়ার জন্য বা কাজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব দলগুলোর সাথে কথা বলার। কিন্তু এর মধ্যে সরকার যে কাজগুলো করেছে, সেই কাজগুলো ছিল জনগণের একদম কাছাকাছি যাওয়ার কাজ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে একটা জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছেন। আমাদের এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লুট করে নিয়ে গেছে সমস্ত ব্যাংকগুলো, সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা, সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলেছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী গড়ে তোলবার জন্য কাজ শুরু করেছেন। এ কথাগুলোই আজকে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে তিনি বলেছেন যে, তিনি এরপরে প্রায়শই অর্থাৎ যতটা দ্রুত সম্ভব হবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তিনি বসবেন। তিনি বলেছেন যে, ৩১ দফা কর্মসূচি যেটা আমরা একসাথে দিয়েছিলাম, সে ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। এবং তিনি এটাও বলেছেন যে, ‘জুলাই সনদ’ যেটা আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছি, সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আমার মনে হয়- এটা নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও পারি। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ভিত্তিতে করবো।
