যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে গেলেন কিউবার ভিন্নমতাবলম্বী ওতেরো

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে গেলেন কিউবার ভিন্নমতাবলম্বী ওতেরো

ফন্ট সাইজ:

কিউবার অন্যতম ভিন্নমতাবলম্বী লুইস ম্যানুয়েল ওতেরো আলকান্তারা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে গেছেন। কিউবায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগের পর তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। ৩৮ বছর বয়সী লুইস ম্যানুয়েল ওতেরো আলকান্তারা সান ইসিদ্রো মুভমেন্টের (এসআইএম) নেতা। শিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের এই সংগঠনটি কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ২০২১ সালে কিউবায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি হাভানার কাছে অবস্থিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট গুয়ানাহাই কারাগারে পাঁচ বছর কাটান। সম্প্রতি কয়েক দিন তার অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।

কারণ, যুক্তরাষ্ট্র তার প্যারোল আবেদন অনুমোদন দেয়ার সময় কিউবার কর্তৃপক্ষ তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রেখেছিল। মায়ামি বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান। তারা কিউবার জাতীয় সংগীত গাইতে থাকেন। এ সময় ওতেরো আলকান্তারা হাতের তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ইংরেজি ‘এল’ অক্ষরের আকৃতি তৈরি করেন, যা ‘লিবেরতাদ’ (স্বাধীনতা)-এর প্রতীক এবং কিউবার সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি পরিচিত চিহ্ন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই একনায়কতন্ত্রের অবসান হওয়া উচিত। ক্যাস্ত্রো বংশের শাসনেরও শেষ হওয়া উচিত। কারণ, যতদিন ক্ষমতায় কোনো ক্যাস্ত্রো থাকবে, ততদিন দুর্নীতিও থাকবে।

কিউবা কর্তৃপক্ষের দাবি, সান ইসিদ্রো মুভমেন্ট ওয়াশিংটনের অর্থায়নে পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সংগঠনটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের অনেক সদস্যের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত তাদের হয়রানি করে এবং অনেককে ইচ্ছামতো আটক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, পাঁচ বছর আগে নিজ দেশের জনগণের ওপর কিউবা সরকারের নৃশংস দমনপীড়ন আবারও প্রমাণ করেছে যে কমিউনিস্ট ব্যবস্থার মধ্যে জন্মগতভাবেই দুর্ভোগ ও অশুভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন