যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মার্কিন শত্রু যখন যুদ্ধকে আরও উসকে দিতে এবং ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে চাইছে, তখন তাদের জানা উচিত- প্রিয় ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ অক্ষ তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে।
মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের ওপর চলমান হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। আর জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এ ছাড়া খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে।
তিনি বলেন, ইরান আর শুধু সমানুপাতিক পাল্টা জবাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর টানা অষ্টমদিনের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়ার নতুন সংঘর্ষে তাদের দুইজন মার্কিন সেনা জর্ডানে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। দেশটি প্রথমবারের মতো এবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি সেতু গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে সেখানে স্থল অভিযান চালাতে পারে।
অন্যদিকে ইরান কড়া হুঁশিয়ার বার্তায় বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামো হামলার শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। ইতিমধ্যে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে।
কুয়েত অভিযোগ করেছে, ইরান দেশটির বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুয়েতের বাসিন্দা হাসান রায়ান বলেন, আজ সকাল থেকেই বোতলজাত পানি ও টিনজাত খাবারের চাহিদা বেড়েছে। মানুষ আশঙ্কা করছে, সেবা ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
আরেক বাসিন্দা আলি মাহমুদ বলেন, সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সড়ক ও সমুদ্রসৈকত প্রায় জনশূন্য।
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আগের দিনও অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক চুক্তি)-এর আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত ঘোষণা করেছে তেহরান।
তিনি বলেছেন , যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং সেখান থেকে সরে গেছে। আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি।
