আগামী বছর ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ব্র্যান্ড নিউ ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ

আগামী বছর ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ব্র্যান্ড নিউ ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ

ফন্ট সাইজ:

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠার এক যুগ পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ যাত্রার এ পর্যায়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে ২১টি সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ। একই সাথে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা আরো মেলতে চলেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। দীর্ঘ পথযাত্রায় যাত্রী, শুভানুধ্যায়ী, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ১২ বছরের এই যাত্রা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিকী নয়, বরং বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে একটি টেকসই, দায়িত্বশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্র্যান্ড হিসেবে ইউএস-বাংলার প্রতিষ্ঠার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইনসে পরিণত হয়েছে। এই অর্জনের পেছনে যাত্রীদের আস্থা, সরকারের নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সমর্থন এবং চার হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরলস পরিশ্রম রয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে আছে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ দিয়ে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ ও ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে হাজারো যাত্রীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ইউএস-বাংলা বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে আইএটিএ (IATA) ও আইওএসএ (IOSA) সনদ অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি সংস্থাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচালন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার সক্ষমতার স্বীকৃতি।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলাই প্রথম দেশীয় এয়ারলাইনস, যা চীনের বিভিন্ন গন্তব্য, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করছে সংস্থাটি। তাদের স্লোগান, “আপনি লাগেজের জন্য অপেক্ষা করবেন না বরং লাগেজ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে”
জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী এয়ারলাইনস হিসেবে ইউএস-বাংলা দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে আরও ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এর মধ্যে থাকবে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি। এটি হবে দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম বড় বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।
তিনি আরও জানান, বহর বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন গন্তব্য হিসেবে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং এবং মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও পেনাংয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা। সংস্থাটির মূল দর্শন হলো Safety First, Service Excellence, Operational Efficiency এবং Sustainable Growth। প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও সেবার কেন্দ্রে রয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি।
এমডি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি শক্তিশালী দেশীয় এয়ারলাইনস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউএস-বাংলা সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর সম্মিলিত মার্কেট শেয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ, বাকি প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইউএস-বাংলা প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে, এই সংখ্যা দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের অগ্রগতিরই প্রতিফলন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন