প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্র, ফাউল ১৯টি

সরাসরি

প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্র, ফাউল ১৯টি

ফন্ট সাইজ:



মারামারি আর ফাউলে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে। প্রথমার্ধে সব মিলিয়ে ফাউল হয়েছে ১৯টি। ১২টি করেছে আর্জেন্টিনা এবং ৭টি ইংল্যান্ড। অন্য দিকে দুই দলের কেউই কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। অর্থাৎ গোল করার চেষ্টার চেয়ে ফাউল করাতেই বেশি মনোযোগ ছিল দুই দলের।


লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে হলুদ কার্ড

ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার মর্গান রজার্সকে অবৈধভাবে বাধা দেওয়ার দায়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। রজার্স যখন দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন মার্টিনেজ তাকে টেনে ধরে থামানোর চেষ্টা করেন। রেফারি সাথে সাথে মার্টিনেজকে সতর্ক করেন এবং কার্ড প্রদর্শন করেন।


ম্যাচের উত্তাপ ও কার্ড 


ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে খেলার উত্তাপ বেশ বেড়ে যায়। লিওনেল মেসি যখন ড্রিবল করে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে বাধা দিতে গিয়ে ফাউল করে বসেন ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এই ঘটনার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে ফাউলের দাবি জানালে মাঠে বেশ উত্তেজনা তৈরি হয়। রেফারি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্ডারসনকে হলুদ কার্ড দেখান। অ্যান্ডারসন নিজেও এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত সমতা

ম্যাচের শুরুর ২৫ মিনিটে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছে, তবে কোনো দলই এখনো গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কড়া শারীরিক লড়াই ও ফাউলের মহড়া দেখা গেছে, যার ফলে ছন্দহীন ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে খেলা। ইংল্যান্ড দল কিছু গোছানো আক্রমণ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মার্তিনেজ তা বেশ দক্ষতায় রুখে দিয়েছেন। অন্যদিকে, মেসি ও সিমিওনে ছোট ছোট আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডেরায় ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করলেও, খেলাটি এখন পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র রয়েছে।




টুখেলের কৌশলী পরিবর্তন, আর্জেন্টিনার একাদশে সিমিওনে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। বড় ম্যাচের আগে দুই দলের কোচই তাদের একাদশে চমক রেখেছেন। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বেশ কিছু সাহসী পরিবর্তন এনেছেন, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তাদের মধ্যমাঠে এনেছে কৌশলগত বদল।
কোচ টমাস টুখেল একাদশেনটি বড় পরিবর্তন এনেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুই ফুল-ব্যাক পজিশন। এজরি কোনসা, নিকো ও’রাইলি ও ননি মাদুয়েকের পরিবর্তে আজ মূল একাদশে এসেছেন রিস জেমস, জেড স্পেন্স ও মর্গান রজার্স।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচ থেকে আর্জেন্টিনা মাত্র একটি পরিবর্তন এনেছে। মধ্যমাঠে রদ্রিগো ডি পলের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন জুলিয়ান সিমিওনে। এই টুর্নামেন্টে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচটিতেই কেবল সিমিওনে মাঠে নেমেছিলেন। ডি পলের চেয়ে তিনি সহজাতভাবে বেশি উইং-কেন্দ্রিক খেলোয়াড়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আজ কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা লপসাইডেড ফরমেশনে খেলতে পারে, যেখানে ম্যাক অ্যালিস্টার কিছুটা ভেতরে বা সেন্ট্রাল রোলে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রচলিত রক্ষণশীল কৌশলের চেয়ে আজ ট্যাকটিক্যাল সিমেট্রির চেয়ে জয়কেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন স্কালোনি।

দুই দলের শুরুর একাদশ:

ইংল্যান্ড (৪-২-৩-১): পিকফোর্ড (গোলরক্ষক), জেমস, স্টোনস, গুয়েহি, স্পেন্স, অ্যান্ডারসন, রাইস, রজার্স, বেলিংহাম, গর্ডন, কেন (অধিনায়ক)।
আর্জেন্টিনা (৪-১-৩-২): ই. মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), মলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, তাগলিয়াফিকো, পারেদেস, সিমিওনে, ই. ফের্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, মেসি (অধিনায়ক), আলভারেজ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন