ডালাস স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের মহারণে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। মিকেল ওইয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরোর নিখুঁত লক্ষ্যভেদে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। আগামী ১৯শে জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লা রোজারা। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের পর ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যানের পাতায় যে ওলটপালট হয়েছে, তা মানবজমিন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
২: স্পেন ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলো। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
২: ইউরোজয়ী দল হিসেবে পরবর্তী বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি আছে মাত্র দুটি দেশের, ২০০৮-১০ স্পেন ও ১৯৭২-৭৪ পশ্চিম জার্মানি। প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সেই রেকর্ডের খোঁজে আছে স্প্যানিশরা।
১০: ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে ফ্রান্সের কাছে হারের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত রইলো স্পেন (৮ জয়, ২ ড্র)।
৩৭: সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচে (২৮ জয়, ৯ ড্র) অপরাজিত থাকলো স্পেন। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই যৌথভাবে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড (২০১৮-২১ সালের ইতালির সমান)।
৪/৫: সব ধরনের টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ৫টি দেখায় ৪টিতেই জিতলো স্পেন। ২০২১ সালের ন্যাশনস লীগ ফাইনালটিই ছিল ফরাসিদের একমাত্র জয়।
৬/৬: বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একটি একক আসরে ৬টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে জয় পাওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লো স্পেন।
৬: স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমোন এখন বিশ্বকাপের একটি একক আসরে সবচেয়ে বেশি (৬টি) ক্লিন শিট রাখার রেকর্ডের মালিক।
১০: বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ১০ ম্যাচে গোল করার যে রেকর্ড ছিল, তা থামিয়ে দিলো স্পেন। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে এটি ছিল দ্বিতীয় দীর্ঘতম সক্রিয় রেকর্ড।
০.৩: স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ‘এক্সপেক্টেড গোলস’ (এক্সজি) বা গোল করার সম্ভাব্য হার ছিল মাত্র ০.৩০, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন।
৬: বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ৬ ম্যাচ জেতার রেকর্ডের অবসান ঘটলো।
৩: পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) এবং ব্রাজিলের (১৯৯৪-২০০২) পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করলো ফরাসিরা।
৮/১১: সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে শেষ ১১টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই হারলো ফ্রান্স (২ জয়, ১ ড্র, ৮ হার)।
০-২: ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ০-২ গোলে হারের পর, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়।
৫+ এবং ৩০: ডেভিড ভিয়া (২০১০) এবং এমিলিও বুত্রাগুয়েনোর (১৯৮৬) পর তৃতীয় স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ৫ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এটি ছিল তার ৩০তম আন্তর্জাতিক গোল, যার মাধ্যমে তিনি ফের্নান্দো হিয়েরোকে (২৯ গোল) ছাড়িয়ে স্পেনের ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।
১৭: বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি গোল করার রেকর্ড এখন স্পেনের (১৭টি)। তারা টপকে গেছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে (১৬টি)।
৮: বড় টুর্নামেন্টগুলোতে (বিশ্বকাপ/ইউরো মিলিয়ে- ১৯৮০ সালের পর থেকে রেকর্ড অনুযায়ী) স্পেনের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের (৮টি) মালিক হলেন দানি ওলমো। তিনি সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
৫: গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি একক আসরে একাধিক গোল করা পঞ্চম ডিফেন্ডার হলেন পেদ্রো পোরো।
০: পুরো ম্যাচে একটি শটও অন-টার্গেটে (গোলপোস্টে) রাখতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম ফরাসি মহাতারকা অন-টার্গেটে শট নিতে ব্যর্থ হলেন।
০/৬: রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর থেকে, ক্লাব কিংবা জাতীয় দল- যেকোনো নকআউট ম্যাচে লামিন ইয়ামালের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছেন এমবাপ্পে (ইউরো ২০২৪, স্প্যানিশ সুপারকোপার দুটি ম্যাচ, কোপা দেল রে, উয়েফা ন্যাশনস লীগ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬টি নকআউট ম্যাচে পরাজয়)।
১৯ বছর ১ দিন: ১৯ বছর ১ দিন বয়সে পেনাল্টি আদায় করে নিয়ে গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ইয়ামাল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১৮ বছর ১৯৮ দিন বয়সে পেনাল্টি আদায় করে শীর্ষে আছেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন।
২/৭: বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল খেলা সাতজন কিশোরের (অনূর্ধ্ব-২০) মধ্যে দুজনই গতকাল স্পেনের হয়ে মাঠে নামেন- লামিন ইয়ামাল এবং পাউ কুবারসি।
