টানা ৬ দিনের অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পর সুনামগঞ্জে মিলেছে রোদের দেখা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকায় এবং আকাশে ঝলমলে রোদ ওঠায় বন্যার শঙ্কায় থাকা নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি এখন হ্রাস পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগের তুলনায় কমেছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় এবং দিরাই পয়েন্টেও পানির উচ্চতা কমেছে।
গত ৬ দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাইসহ জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সত্তিয়ারখলা এলাকার ১০০ মিটার ডুবন্ত সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পানি সরে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরেছে। স্থানীয় বালু শ্রমিক জামাল মিয়া বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর আজ রোদের দেখা পাওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে কিছু নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে। পুরোপুরি পানি না নামা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে কাজে ফিরতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, সোমবার বিকাল থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের ১০০ মিটার ডুবন্ত অংশ থেকেও পানি নেমে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিন পানি আরও কমবে এবং বন্যার শঙ্কা অনেকটাই কেটে যাবে।
