হুইপের কণ্ঠ নকল করে পুলিশ সুপারকে বদলির প্রলোভন ছাত্রদল নেতার!

হুইপের কণ্ঠ নকল করে পুলিশ সুপারকে বদলির প্রলোভন ছাত্রদল নেতার!

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি’র কণ্ঠস্বর নকল ও বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলা পদায়ন ও বদলির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। আর্থিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধ স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগী কয়রা উপজেলা ছাত্র দল নেতা মো. হাবিবুর রহমান।

লিখিত মুচলেকা থেকে জানা যায়, খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতী এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং খুলনা জেলার কয়রার লালুয়া এলাকার মৃত মোসলেম সানার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৩২) পরস্পর যোগসাজশে এই জালিয়াতির ফাঁদ পাতেন।
তারা দু’জনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ২৫তম বিসিএস ব্যাচের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে টার্গেট করেন। এরপর জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে কাঙ্ক্ষিত জেলায় পদায়নের প্রলোভন দেখান। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে তারা জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি’র কণ্ঠ নকল করে ওই কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় ফোনে কথা বলেন এবং বদলির তদবিরের নামে প্রতারণার চেষ্টা চালান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অপরাধ স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন এই দুই ছাত্রদল নেতা।

মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন, আর্থিক লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ২৫তম বিসিএস-এর একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলায় পদায়নের প্রলোভন দেখিয়ে হুইপের কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলি এবং উক্ত কর্মকর্তাকে প্রলোভন দেখাই। তবে প্রকৃতপক্ষে উক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে তারা কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন। নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তারা উভয়েই লিখিতভাবে অনুতপ্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এহেন রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধমূলক জালিয়াতি কার্যক্রম করবেন না মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করেছেন।
এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন আমি দীর্ঘদিন খুলনায় ছাত্ররাজনীতি করেছি কলেজ ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম।

আমি খুলনার রাজনীতিতে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে আছি। তার প্রতিপক্ষরা আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কেএমপি কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, যারা এ ধরনের নোংরামি করে প্রমাণ পেলে তাদের ছাড় দেয়ার হবে না। দল ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্নকারীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন