মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সংগঠনটির কমিটি সংকটের সমাধান না হওয়ায় তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পথের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সূত্র মতে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন গত ১২ই মে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন ২১ সদস্যের কমিটিতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি ও মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নির্বাচন ছাড়া নতুন কমিটি দেয়ায় শ্রমিকদের একাংশ আন্দোলন শুরু করেন এবং সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময়ে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে জেলা প্রশাসক সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার কমিটি গঠনের জন্য জেলা প্রশাসকের অফিসে দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে সমাধান মেলেনি। ফলে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা লিটন বলেন, পাখি গ্রুপের একটি চক্রের হাতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি তুলে দেয়া হচ্ছিল। আমরা বাধা দিলে মালিক পক্ষের ওই চক্রের ব্যক্তিকে বাদ দেয়া হয়, কিন্তু কোনো আয় ব্যয়ের হিসাব দিতে রাজি নন তারা। আমরা ওয়াকআউট করেছি। অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচন না দেয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
রাজশাহী পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল বলেন, মোমিন একজন ফ্যাসিস্ট তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা আছে তাকে দিয়ে কমিটি কীভাবে হয় তাকে গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। আমরা এ সমস্যার সমাধানে তাদেরকে ডেকেছিলাম। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
