যমুনায় বাড়ছে পানি ভাঙছে বসতভিটা ও জমি

ফন্ট সাইজ:

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে দুর্গম চরের লোকালয়, ফসলি জমি ও বসতি জনপদ। একসময় চরের সচ্ছল কৃষক হয়েও নদীভাঙনে এখন তারা সহায়-সম্বলহীন। আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে হাজারো মানুষের। মঙ্গলবার বিকালে সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা হার্ড পয়েন্টে ১৫৫ ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জানা যায়, এই পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে যমুনার প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও কাজীপুর উপজেলার অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার পরিবার দিশাহারা হয়ে ভাঙন আতঙ্ক দিনপার করছেন। জানা গেছে, জুনের শুরু থেকেই যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় নদীভাঙন। এ পর্যন্ত শতাধিক বসতি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে।

চরের কৃষক মোবারক আলী (৬৬) বলেন, তার ১৮ বিঘা জমি ছিল। যমুনার ভাঙনে সব শেষ। দুই বছর আগে আবার চরেই ঘর বানান। এখন ভাঙন সেই ঘরের দিকে এগোচ্ছে। এ নিয়ে নদী ১৬ বার তার ঘর ভেঙেছে। শাহজাদপুর উপজেলার ধীতপুর গ্রামের ইয়ার আলী বলেন, নদীভাঙনে ধীতপুর ও কুড়সী গ্রাম এখন বিলীনের পথে। অনেকেই আশ্রয়হারা হয়ে অনত্র ঠাঁই নিয়েছেন। এখন যমুনার ভাঙন আতঙ্কে এই দুই গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ গ্রামের রবিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্রামে স্কুল, মসজিদ ও কত কিছু গড়ে উঠেছিল। কিন্তু যমুনার ভাঙনে এখন সব বিলীন। কূলকিনারা না পেয়ে যে যেভাবে পেরেছে আশপাশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে দ্রুত ভাঙন বন্ধ করতে ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ঢলের পানির প্রচন্ড চাপে নদীর তীরবর্তী অংশের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করে আপাতত ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে। যমুনার ভাঙন নিয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সঙ্গে। তিনি বলেন, যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন