টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রাণীর মৃত্যু, খামারের ক্ষতি, পশুখাদ্য নষ্ট হওয়া এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০টি মুরগি, ১৫ হাজার ৬০০টি হাঁস, ৮০ হাজার ৩২০টি গরু, ৩২৫টি মহিষ, ৬০ হাজার ৫০০টি ছাগল এবং ১০ হাজার ৩১০টি ভেড়া আক্রান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যার পানিতে ৩৫টি গরু, ৮৭টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ৩৯৫টি মুরগি এবং ১ হাজারটি হাঁস মারা গেছে। প্রাণীর মৃত্যুর কারণে সরাসরি ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬০টি গবাদিপশুর খামার ও ২৫টি হাঁস-মুরগির খামার। গবাদিপশুর খামারের মধ্যে বাঁশখালীতে ২২টি, পটিয়ায় ২০টি, সাতকানিয়ায় ১৫টি, হাটহাজারীতে ৩টি এবং সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ায় ২টি করে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হাঁস-মুরগির খামারের মধ্যে বাঁশখালীতে ৭টি, সাতকানিয়ায় ৬টি, ফটিকছড়িতে ৪টি, হাটহাজারী ও চন্দনাইশে ৩টি করে এবং কর্ণফুলীতে ২টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে। সেখানে ১২ হাজার ৫১০টি গরু, ৮ হাজার ২৩০টি ছাগল ও ১ লাখ ৫৫টি মুরগি আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১২টি গরু, ৩৯টি ছাগল ও ২০ হাজার ২০০টি মুরগি ।
সাতকানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৯৮০টি গরু ও ৯ হাজার ৬৫০টি ছাগল। সেখানে মারা গেছে ৮টি গরু ও ৩৯টি ছাগল। এ ছাড়া আনোয়ারায় ৪টি, সন্দ্বীপে ৩টি, হাটহাজারীতে ৩টি, কর্ণফুলীতে ২টি, পটিয়ায় ২টি এবং মীরসরাইয়ে ১টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় যে হিসাব এসেছে, তা আরও বাড়তে পারে। অনেক মুরগির খামার নষ্ট হয়েছে, গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে ভেসে গেছে। অনেক খামারি দুধ বিক্রি করতে পারছেন না, আবার দুধ উৎপাদনও কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা দেয়া হলেও গবাদিপশুর খাদ্যের বিষয়টি এখনো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে গরু থাকলেও তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত পুনর্বাসনে মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
