চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় টানা ৬ দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দুই উপজেলার অধিকাংশ নদী ও ছড়ার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় জনজীবনও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এ দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা বন্যার পানি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করেছে। তবে কিছু নিম্নাঞ্চলে এখনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সীমিতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
পানি কমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মাছ চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরজমিন দেখা যায়, বন্যায় হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা অসংখ্য বসতঘর ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী এবং সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এদিকে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও ঘরবাড়ি সংস্কারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন।
