ফেনীতে জুলাই অভ্যুত্থানের ৭ হত্যাসহ ২২ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, হতে পারে পুনঃতদন্ত

ফন্ট সাইজ:

ফেনীতে ২০২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় সাত হত্যাসহ ২২টি মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মামলায় আসামির সংখ্যা, দুর্বল চার্জশিট ও ঘটনায় জড়িত না থাকা ব্যক্তিদের জড়ানোসহ নানা অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি)। আদালতের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম মামলাগুলো পর্যবেক্ষণ করার পরই তোলপাড় চলছে ফেনীর প্রশাসন ও আইনাঙ্গনে। সম্প্রতি ফেনী জেলা আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান ও মামলাগুলোর বাদী পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞাকে ঢাকায় ডেকে পাঠান আইসিটি’র চিফ প্রসিকিউটর। এ সময় ২২টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে চলতি সপ্তাহে ফেনী সফরে আসার কথা জানান তিনি। ফেনীর পিপি জানান, আইনগত ত্রুটি আর ইচ্ছামতো মামলায় আসামি করা, সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করায় ক্ষোভ জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, আদালতের বিচারক, আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মামলা সংশ্লিষ্টজনদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আইসিটি’র চিফ প্রসিকিউটর। এরপর করণীয় নির্ধারণ করা হবে। ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট ফেনীর মহিপালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনে এক দফা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ জন নিহত হয়। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় সাড়ে চার শতাধিক। এ ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করে ৫০ জনের মতো। এসব ঘটনায় ৭টি হত্যাসহ মামলা করা হয় ২২টি। এর মধ্যে ৬টি হত্যা ও ৫টি হত্যাচেষ্টা মামলায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে ২টি হত্যা মামলার বিচার কাজও শুরু হয়েছে। যার মধ্যে টমটমচালক সবুজ হত্যা মামলার সাক্ষীগ্রহণ চলছে, আর আলোচিত সিহাব হত্যা মামলার চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের অপেক্ষায় আছে।

এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ফেনী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক এমপি আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল বশর তপন, ছয়টি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, পাঁচ পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতারা আসামি। এসব মামলায় মোট আসামি প্রায় ১১ হাজার। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়া সব আসামিই ফেনীর বাসিন্দা। এর মধ্যে ৫শ’র মতো বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হলেও অনেক আসামি আদালতের মাধ্যমে কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে মাসুদ চৌধুরী ছাড়া উল্লেখযোগ্য সব আসামিই পলাতক। অভিযোগ আছে অনেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার কারণে মামলার আসামি হয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত না থাকলেও রাজনৈতিক হয়রানির কারণে তারা এসব মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

হত্যাচেষ্টার এক মামলার বাদী আমরাই জুলাইযোদ্ধা ফেনী জেলা কমিটির সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, ৪ঠা আগস্টের গণহত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলো। ফেনী জেলা আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন, হত্যাচেষ্টা আর বিস্ফোরক আইনের ১৫টি মামলা ফেনীর আদালতে বিচার হলেও হত্যা মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে শিগগিরই। আইসিটি’র চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরের পর মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত হতে পারে বলেও জানান মেজবাহ খান।

এদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা জানান, মামলার বিচার কোন আদালতে হবে সেটি বিবেচনার বিষয় নয়, গণহত্যাসহ ঘটনার বিচার জরুরি। সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের অপরাধ অনুযায়ী সাজা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। আর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মু. সাইফুল ইসলাম জানান, সততার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে মামলাগুলোর চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তারপরও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন